স্টাফ রিপোর্টার, বর্ধমান: ফের বেপরোয়া বিধায়ক-পুত্র৷ এবার মদ্যপ অবস্থায় হিট অ্যান্ড রান! কলকাতার রেড রোডে বাম জোটের প্রাক্তন বিধায়ক মহম্মদ সোহরাব পুত্র সাম্বিয়ার বেপরোয়া গাড়ির ধাক্কায় প্রাণ হারিয়েছিলেন এক বায়ুসেনা অফিসার৷ মদ্যপ সাম্বিয়ার বেপরোয়া গতির সামনে কার্যত ছিন্নভিন্ন হয়ে গিয়েছিল ওই সেনা অফিসারের দেহ৷ আর এবার সিপিএমের প্রাক্তন বিধায়ক হেদায়েতুল্লা চৌধুরির মদ্যপ পুত্রর বেপরোয়া গাড়ি চালানোর বলি হলেন চার নিরীহ আদিবাসী৷ মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন আরও পাঁচজন৷ আহত হয়েছেন প্রাক্তন বিধায়কের পুত্রর গাড়ির সওয়ারি এক ‘বন্ধু’-ও৷ হাসপাতালের বেডে শুয়ে দুর্ঘটনাগ্রস্ত গাড়ির যাত্রী সাহিদ স্বীকার করেছেন, মদ্যপ অবস্থায় প্রচণ্ড গতিতে গাড়ি চালাচ্ছিল প্রাক্তন বিধায়কের পুত্র৷
শুক্রবার রাতে মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমান জেলার মন্তেশ্বরের জয়রামপুর পুল এলাকায়৷ শনিবার সকালে ঘটনার প্রতিবাদে কাটোয়া-মেমারি রোড অবরোধ করেন আদিবাসীরা৷ যদিও কিছু সময়ের মধ্যে অবরোধ তুলে দেওয়া হয় গ্রুপ ডি পরীক্ষা থাকার কারণে৷ দুর্ঘটনার পর পলাতক মন্তেশ্বরের প্রাক্তন বিধায়ক চৌধুরি মহম্মদ হেদায়েতুল্লাহর পুত্র চৌধুরি মহম্মদ হামিদুল্লাহ৷ তার শাস্তির দাবিতে সরব হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা৷
[‘কাসভের থেকে বড় জঙ্গি কুলভূষণ’]
বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ঘাতক গাড়ির সওয়ারি তথা হামিদুল্লাহর ‘বন্ধু’ মহম্মদ সাহিদ৷ তিনি স্বীকার করে নিয়েছেন, মদ্যপান করেই গাড়ি চালাচ্ছিল হামিদুল্লাহ৷ দু’জনে প্রথমে নদিয়ার নবদ্বীপে হোটেলে বসে মদ্যপান করেন৷ তারপর দ্রুতগতিতে গাড়ি চালাচ্ছিল হামিদুল্লা৷ বেপরোয়া গাড়ি চালানোর ফলে মন্তেশ্বরেরই কুসুমগ্রাম বাজারে প্রথমে এক মোটরবাইক আরোহীকে ধাক্কা মারে৷ তার পর স্থানীয়রা ধাওয়া করলে ক্রমশই গাড়ির গতি বাড়িয়ে কুসুমগ্রাম থেকে মন্তেশ্বরের দিকে পালানোর চেষ্টা করে তারা৷ এর ফলেই জয়রামপুর এলাকায় সেচখালের পুলের কাছে ফের দুর্ঘটনা ঘটায় হামিদুল্লাহ৷
ঝাড়খণ্ড থেকে বোরো ধান কাটতে আসা দিনমজুররা তখন সবে খাওয়া সেরে ঘুমোতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন৷ রাস্তার ধারে অস্থায়ী ডেরায় গল্প-গুজবে মশগুল ছিলেন তাঁরা৷ আচমকা দ্রুতগতিতে গাড়ি নিয়ে এসে এই মানুষজনের উপর দিয়ে গাড়ি চালিয়ে দেয় হামিদুল্লাহ৷ তার পর একটি পাওয়ার টিলারেও ধাক্কা মারে৷ ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় দু’জনের৷ আহত হন আরও পাঁচজন৷ গাড়ির সওয়ারি মহম্মদ সাহিদও জখম হয়েছেন৷ স্থানীয়রা পুলিশের সাহায্যে আহতদের উদ্ধার করে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান৷
[ধর্ষণ করতে আসা যুবকের পুরষাঙ্গই কেটে নিলেন মহিলা!]
মৃতরা হলেন জোহানি মুর্মু, পুলিন কালিন, ফাটা হাঁসদা৷ বাকি একজনের পরিচয় পাওয়া যায়নি৷ দুর্ঘটনার পর থেকেই পলাতক হামিদুল্লাহ৷ তার খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ৷ সিপিএমের প্রাক্তন বিধায়ক চৌধুরি মহম্মদ হেদায়েতুল্লাহকে ছেলের প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ছেলে কোথায় জানি না৷ একশো বার ফোন করেছি৷ দুর্ঘটনার ঘটিয়েছে কি না তা-ও জানা নেই৷”
স্থানীয় বিধায়ক সৈকত পাঁজার অভিযোগ, “বেপরোয়া গতিতে গাড়িটি চলছিল৷ প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, গাড়িটি ১১০ কিমি গতিতে চলছিল৷ বেহিসেবী হওয়ায় নিরীহ মানুষের প্রাণ গেল৷”
[কপিলের সংসারে নয়া অতিথি, কার পরিবর্তে এলেন তিনি?]
