প্যারাগুয়ের কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গিয়েছে জার্মানি। টাইব্রেকারে চারবারের বিশ্বজয়ী দলকে বাঁচাতে পারেননি ম্যানুয়েল ন্যয়ারও। অনেকে বলতে পারেন, টাইব্রেকারের ফলাফল ভাগ্যের উপরও নির্ভর করে। কিন্তু সত্যিই কি তাই? সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, জার্মানির চারজন ফুটবলার নাকি পেনাল্টি মারতেই রাজি হননি। যা থেকে স্পষ্ট, দলের মধ্যে ভাঙন রয়েছে।
রাউন্ড অফ ৩২-এ প্যারাগুয়ের বিরুদ্ধে জার্মানির ম্যাচ নির্ধারিত সময়ে শেষ হয় ১-১ গোলে। সংযুক্তি সময়েও গোল হয়নি। টাইব্রেকারে জার্মানি ৩-৪ ব্যবধানে হারে। শেষে ডিফেন্ডার জোনাথান তাহ গোল মিস করতেই বিদায় হয়ে যায় জার্মানির। যেটা তাঁর কেরিয়ারের প্রথম পেনাল্টি। কিন্তু তাহর পেনাল্টি মারার কথাই ছিল না। তারও আগে চারজনের নাম ছিল। কিন্তু সেই চারজন পেনাল্টি মারতে রাজি হননি। সেই চারজন হলেন লিওঁ গোরেৎজকা, ওয়াল্ডেমার অ্যান্টন, ন্যাথানিয়েল ব্রাউন ও মালিক থিয়াও।
জার্মান সংবাদমাধ্যম 'বিল্ড'-এর খবর অনুযায়ী, এই চারজন আত্মবিশ্বাসের অভাবে ভুগছিলেন। অধিনায়ক জোশুয়া কিমিচ চারজনকে গিয়ে পেনাল্টি মারার কথা বলেন। কিন্তু তাঁরা রাজি হননি। এর মধ্যে গোরেৎজকা দেশের হয়ে ৭২টি ম্যাচ খেলেছেন। তাঁকে কিমিচ দু'বার পেনাল্টি মারার কথা বলেন। কিন্তু দু'বারই তিনি সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন। বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে দীর্ঘদিন খেলা এই মিডফিল্ডারের সিদ্ধান্তে অনেকেই অবাক।
পেনাল্টি শুটআউটে প্রথমেই মিস করেন হাভার্ৎজ। বাঁদিকে ঝাঁপিয়ে অসাধারণ সেভ করেন প্যারাগুয়ের গোলকিপার গিল। এরপর প্যারাগুয়ের হয়ে গোল করেন মরিসিও। তবে লক্ষ্যভ্রষ্ট হননি জার্মানির কিমিচ, মুসিয়ালারা। অন্যদিকে প্যারাগুয়েও পরপর গোল করে। আবার ভোলটেমাডের সেভ ফের বাঁচিয়ে দেন গিল। নাটক জমে যায় প্যারাগুয়ের সানাব্রিয়া বাইরে মারায়। জার্মানির আমিরিও গোল করেন। শেষ শটে মিস করেন প্যারাগুয়ের বালবুয়েনা। স্কোর ফের সমান-সমান। অবশেষে সাডেন ডেথ। সেখানে তাহ বল উড়িয়ে দেন আকাশে। অবশেষে হোসে গোল করতেই বিদায়ঘণ্টা বেজে যায় জার্মানির।
