সম্যক খান, মেদিনীপুর: চার হাত এক হল। একসময় জঙ্গলে জঙ্গলে বন্দুক হাতে ঘুরে বেড়াতেন ওঁরা। ওরা মানে দিলীপ মাহাতো ও সুলেখা মাহাতো। অতীতের মাওবাদী নেতা-নেত্রী। জঙ্গলমহলের ত্রাস ছিলেন। কিন্তু অন্য অনেকের সঙ্গে ওরা দুজনও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের ডাকে সাড়া দিয়ে রাজ্য সরকারের ঘোষিত প্যাকেজে মূলস্রোতে ফিরে এসেছেন। স্বাভাবিক জীবনযাপন করছেন আর পাঁচটা সাধারণ মানুষের মতো। শুধু তাই নয়, আত্মসমর্পনের জন্য পুনর্বাসন প্যাকেজ হিসেবে তারা এখন পুলিশেরই বিশেষ হোমগার্ড হিসেবেও কর্মরত। বুধবার তাঁদের চার হাত এক করার ব্যবস্থা করলেন জেলা পুলিশ সুপার অলোক রাজোরিয়া। তিনি বলেছেন, ‘এটা তাদের সামাজিক কর্তব্যের মধ্যেই পড়ে।’
[‘উন্নয়ন’ নিয়ে কবিতা, জনসভায় কবি শঙ্খ ঘোষের বিরুদ্ধে তোপ দাগলেন অনুব্রত]
এক ঝাঁক পুলিশকর্মীর উপস্থিতিতে শালবনীর কর্ণগড় মহামায়া মন্দিরে ওই যুগলের বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এক জঙ্গল থেকে আরেক জঙ্গল পালিয়ে বেড়ানোর তিক্ত অভিজ্ঞতাকে ভুলে নতুন জীবন শুরু করতে পেরে খুশী প্রাক্তন মাওবাদী দম্পতিও। আগামী দিনে তাঁদের সাংসারিক জীবন সুখময় হয়ে উঠুক সেই আশীর্বাদই তারা চেয়েছেন সকলের কাছে। প্রাক্তন মাও নেতা-নেত্রীর একজন শালবনীর ত্রাস তো অপরজনের ভয়ে কাঁপত বেলপাহাড়ির বিস্তীর্ণ এলাকা। দিলীপের বাড়ি শালবনীর বীরভানপুরে। আর সুলেখার বাড়ি বেলপাহাড়ির আদুলিতে। দিলীপ শুকদেব মাহাতো স্কোয়াডের সদস্য ছিলেন তো মদন মাহাতো স্কোয়াডের সদস্যা ছিলেন সুলেখা।
আত্মসমর্পণ করার পর জেলা পুলিশের পুনর্বাসন কেন্দ্রে থেকে তাঁরা যখন প্যাকেজের অঙ্গ হিসেবে বিশেষ হোমগার্ডের প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন তখনই একে অপরকে ভালবেসে ফেলেন দু’জনে। সেখান থেকেই শুরু হয়ে যায় প্রেমপর্ব। কর্ণগড় মন্দিরে বিয়ে হলেও রাতে শহরেরই লজ ভাড়া করে উপস্থিত সকলের প্রীতিভোজের আয়োজনও করে পুলিশই। উল্লেখ্য, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড়-সহ মধ্য ভারতের রাজ্যগুলিতে মাও সন্ত্রাস অব্যাহত। তবে শান্ত পশ্চিমবঙ্গ। মাও সন্ত্রাস নেই বললেই চলে। আজ উন্নয়নের জোয়ার জঙ্গলমহলে। অনেকেই সন্ত্রাসের পথ ছেড়ে উন্নয়নকে বেছে নিয়ে মূলস্রোতে ফিরে এসেছেন।
[একটি বংশের জন্যই সংরক্ষিত প্রধানমন্ত্রী পদ, কংগ্রেসকে তোপ মোদির]
The post পুলিশের পৌরহিত্যে বন্দুক ছেড়ে বিয়ের পিঁড়িতে দুই প্রাক্তন মাওবাদী appeared first on Sangbad Pratidin.
