ভোটের আগে অবৈধভাবে বাংলায় ঢোকার চেষ্টা! বুধবার রাতে জলপাইগুড়িতে নাকা তল্লাশি চালিয়ে ১৪ জন বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করল আরপিএফ। জলপাইগুড়ি রোড স্টেশনে কামাক্ষ্যা থেকে দিল্লিগামী নর্থ ইস্ট এক্সপ্রেস ট্রেনে তল্লাশি চালিয়ে এদের গ্রেপ্তার করা হয়। এদের মধ্যে চারজন শিশু রয়েছে। ধৃত পুরুষ ও মহিলাদের কাছ থেকে নকল আধার কার্ড, প্যান কার্ড, ভারতীয় সিম, একাধিক মোবাইল ফোন এবং মালয়েশিয়ার মুদ্রা উদ্ধার করেছে আরপিএফ। চলতি মাসেই রাজ্যে দু'দফায় ভোট। তার আগে কী উদ্দেশে, কাদের পরামর্শে বাংলাদেশিরা এপারে অনুপ্রবেশের ছক কষেছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তদন্ত শুরু করেছে আরপিএফ।
রেল পুলিশ সূত্রে খবর, প্রাথমিকভাবে ধৃতদের জেরা করে জানা গিয়েছে, জাল নথি ব্যবহার করে অসম সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ করে দিল্লি যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল ধৃতদের। কীভাবে, কোন পথে, কী উদ্দেশে তাদের ভারতে প্রবেশ এবং এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে যাওয়ার চেষ্টা, জিজ্ঞাসাবাদ করে তা জানার চেষ্টা চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা। বিশেষ করে ভোটের মুখে যেখানে সীমান্ত সুরক্ষা চূড়ান্ত হওয়ার কথা, সেখানে কীভাবে এতজন মিলে ভারতে ঢুকে পড়ল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছেই।
উল্লেখ্য, ছাব্বিশের ভোটের লড়াইয়ে অনুপ্রবেশ একটা বড় ইস্যু যুযুধান দু'পক্ষের কাছে। বিজেপির অভিযোগ, এ রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের মদতে বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশকারীরা ঢুকে অবৈধভাবে নিজেদের ভোটার কার্ড, আধার কার্ড তৈরি করে ভোটদানের অধিকার পাচ্ছে। এরা আসলে অবৈধ ভোটার। এদের অবিলম্বে দেশছাড়া করা উচিত। আবার তৃণমূলের পালটা দাবি, সীমান্ত সুরক্ষার দায়িত্ব কেন্দ্রের। বিএসএফ ঠিকমতো সীমান্তে পাহারা দিলে অনুপ্রবেশের ঘটনা ঘটে না। ভোটের প্রচার হিসেবে অনুপ্রবেশ বিষয়টি দু'পক্ষের শক্তিশালী হাতিয়ার। এখন এই পরিস্থিতিতে বুধবার রাতে জলপাইগুড়ি থেকে একসঙ্গে ১৪ জন বাংলাদেশি ধরা পড়ার ঘটনা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ নিঃসন্দেহে।
