রাস্তায় বেরিয়ে ইভটিজিংয়ের শিকার! সঙ্গে সঙ্গে কাছে থাকা স্মার্টফোনের নির্দিষ্ট অ্যাপে একবার টাচ করলেই হবে। সঙ্গে সঙ্গে দেওয়া হবে নিরাপত্তা। অথবা কোনও গর্ভবতী মহিলার প্রসববেদনায় কাতরাচ্ছেন। বাড়ির লোকজন কোনও দিশা দেখতে পাচ্ছেন না। বাড়িতে বসেই স্মার্টফোনে থাকা অ্যাপে নির্দিষ্ট অপশনে একবার টাচ করে নিজের মোবাইল নম্বর জানিয়ে দিলেই হবে। দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা হয়ে যাবে। পাশাপাশি একইভাবে এলাকার দুর্ঘটনাগ্রস্থ কোনও ব্যক্তি মুহূর্তের মধ্যে পরিষেবা পেয়ে যাবেন 'সাথী' (Sathi App) নামে অ্যাপের মাধ্যমে।
এলাকার মহিলাদের নিরাপত্তা ও পরিষেবা জোরদার করতে এবার ডিজিটাল সুরক্ষার ব্যবস্থা করেছে পূর্ব বর্ধমান জেলার আউশগ্রাম ১ ব্লকের গুসকরা ২ গ্রাম পঞ্চায়েত। চালু করা হয়েছে 'সাথী' নামে একটি বিশেষ অ্যাপ। সম্প্রতি নয়া এই অ্যাপের উদ্বোধন হয়েছে। যেখানে একাধিক সুবিধা পাবেন সাধারণ মানুষ। আউশগ্রাম ১ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি তাপস চট্টোপাধ্যায় বলেন, ''বিশেষ করে প্রত্যন্ত গ্রামীণ এলাকার মহিলা বা ছাত্রীদের নিরাপত্তা এবং জরুরি পরিষেবা সুনিশ্চিত করতে পঞ্চায়েতের উদ্যোগে এই ধরনের পরিষেবা চালু করা হয়েছে। পঞ্চায়েতের প্রধান উপপ্রধানরা এলাকার স্কুলগুলিতে এই অ্যাপের ব্যবহার পদ্ধতি বুঝিয়ে দেবেন। পাসওয়ার্ড দিয়ে দেবেন। যাতে এলাকার ছাত্রছাত্রীরা থেকে সাধারণ মহিলারা দ্রুত নিরাপত্তা ও পরিষেবা পান সেই উদ্দেশ্যেই এই সাথী অ্যাপ চালু করা হয়েছে।"
বর্তমানে মহিলাদের শিক্ষা থেকে বিভিন্ন কর্মের জন্য বাইরে বের হতে হয়। বিশেষ করে ছাত্রছাত্রীদের স্কুল থেকে টিউশন বা কোচিং সেন্টারে যেতে হয়। স্বভাবতই চিন্তায় থাকতে হয় অভিভাবকদের। শুধু তাই নয়, বহু এমন মানুষ আছেন যারা বাড়িতে একা রয়েছেন। হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে চিকিৎসক ডাকারও কেউ থাকেন না। এই সমস্ত কথা মাথায় রেখেই বিশেষ এই অ্যাপ বলে দাবি। এই প্রসঙ্গে পঞ্চায়েত প্রধান নমিতা খাঁ, উপপ্রধান সুবীর মণ্ডল জানিয়েছেন, গুসকরা ২ পঞ্চায়েতকে চলতি আর্থিক বর্ষে 'মহিলা বান্ধব' পঞ্চায়েত হিসাবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। সেই উদ্দেশ্যেই একটি সংস্থার সঙ্গে চুক্তি করে 'সাথী' নামে এই বিশেষ অ্যাপ পরিষেবা চালু করা হয়েছে।
জানা গিয়েছে, সাথী অ্যাপে রয়েছে আপাতত চারটি অপশন। প্রথমত ইভটিজিংয়ের অভিযোগ সংক্রান্ত, দ্বিতীয়ত দুর্ঘটনাজনিত। তৃতীয়ত মহিলাদের গর্ভকালীন অবস্থায় চিকিৎসা পরিষেবার প্রয়োজনে। এছাড়া অন্যান্য কারণেও অ্যাপের মাধ্যমে পরিষেবা পেতে পারেন নাগরিকরা। এই অ্যাপের অ্যাডমিন হিসাবে রয়েছেন প্রধান উপপ্রধানরা। তাঁদের কাছেই প্রথম নোটিফিকেশন আসবে। এরপরেই ইউজারের লোকেশন চিহ্নিত করে তাঁর সঙ্গে কথা বলবেন পঞ্চায়েতের প্রতিনিধিরা। এরপর পুলিশ বা স্বাস্থ্য বিভাগ অথবা সংশ্লিষ্ট বিভাগের সঙ্গে দ্রত যোগাযোগ করে ব্যবস্থা নেবে পঞ্চায়েত।।
