আগুনে পুড়ে গিয়েছিল জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের শতাব্দীপ্রাচীন হলং বনবাংলো। তা পুনর্নির্মাণে উদ্যোগ নেয় রাজ্য সরকার। অর্থ বরাদ্দ করে কাজের নীল নকশাও ছকে দেওয়া হয়। বহু প্রতীক্ষীত সেই হলং বনবাংলোর নির্মাণকাজ শুরু হতে চলেছে খুব শিগগিরই। সেই কাজের উদ্বোধন করার কথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। সব ঠিক থাকলে বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার আগেই এই বনবাংলো নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী। তার প্রস্তুতি চলছে জেলা প্রশাসনের তরফে।
বহু প্রতীক্ষীত সেই হলং বনবাংলোর নির্মাণকাজ শুরু হতে চলেছে খুব শিগগিরই। সেই কাজের উদ্বোধন করার কথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। সব ঠিক থাকলে বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার আগেই এই বনবাংলো নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করবেন মুখ্যমন্ত্রী।
জানা গিয়েছে, ৩ কোটি ৬২ লক্ষ টাকায় ব্যয়ে পুরনো কাঠের হলং বনবাংলোর আদলেই নির্মাণ হবে নতুন হলং বনবাংলো। ইতিমধ্যেই এই কাজের টেন্ডারের পর সংশ্লিষ্ট নির্মাণকারী সংস্থাকে বরাত দিয়ে দিয়েছে বনদপ্তর। বিষয়টি নিয়ে উত্তরবঙ্গের বন্যপ্রাণ বিভাগের মুখ্য বনপাল ভাস্কর জেভি বলেন, “টেন্ডার ডাকার পর ওয়ার্ক অর্ডার দেওয়া হয়ে গেছে। খুব তাড়াতাড়ি এই বনবাংলো নির্মাণের কাজ শুরু হবে। তার প্রস্তুতি চলছে।''
আগুনে পুড়ে যাওয়া প্রাচীন হলং বনবাংলো। ফাইল ছবি
গত বছরের ১৮ জুন রাতে বিধ্বংসী আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায় জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের হলং বন বাংলো। পরে তদন্তে জানা যায় ৮ কামড়ার এই বনবাংলোর তিন তলায় ৩ নম্বর ঘরে শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লেগে গোটা বাংলো পুড়ে যায়। ১৯৬৭ সালে নির্মিত কাঠের এই বনবাংলোকে রাজ্য পর্যটনের ‘কোহিনূর’ বলেন অনেকে। কাঠের এই বন বাংলোকে পুরনো আদলেই কাঠ দিয়ে তৈরির দাবি জানিয়েছিলেন বিভিন্ন পক্ষ। অবশেষে সেই পুরনো আদলেই ফিরছে উত্তরের আবেগ এই বন বাংলো।
এই ছিল হলং বাংলোর রূপ। ফাইল ছবি
কিন্তু কী দিয়ে তৈরি হবে এই বনবাংলো? জানা গিয়েছে শাল , সেগুন আর পাইনেই রূপ পাবে হলং বন বাংলো । একেবারে হুবহু আগের মতো দেখতে হবে এই বনবাংলোর চেহারা। তিন তলা এই বনবাংলো তৈরির খরচ ধরা হয়েছে ৩ কোটি ৮৫ লক্ষ টাকা। প্রথমে কংক্রিটের বাংলো তৈরি করে তার পর শাল, সেগুন আর পাইন কাঠ দিয়ে মুড়ে দেওয়া হবে গোটা বাংলোর ভিতরে ও বাইরের দিক। যা দেখে কেউ বুঝতেই পারবে না যে এটা কংক্রিটের তৈরি।
কাঠের হলং বনবাংলো নিয়ে দেশি বিদেশি পর্যটকদের আবেগকে মর্যাদা দিতেই এই ব্যবস্থা বলে জানিয়েছে বনদপ্তর। তিনতলা বাংলোর ভিতর ও বাইরের ওয়াল উডেন ক্ল্যাডিং থাকবে। কাঠ সরবরাহ করবে বনদপ্তর। সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, এই বনবাংলোর ভিতরের দিকে থাকবে শালকাঠের ফ্রেমে পাইন কাঠে মোড়া আর বাইরের দিকে শাল কাঠের ফ্রেমে সেগুন কাঠ দিয়ে মুড়ে দেওয়া হবে।পুনর্নির্মিত এই বনবাংলোতে আগুন প্রতিরোধে বিশেষ ব্যবস্থা থাকবে।
