সবে মাত্র দিনের আলো ফুটেছে! ধীরে ধীরে যে যার কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়ছেন। এর মধ্যেই বাড়িতে সটান হাজির অজ্ঞাত পরিচয়ের এক মহিলা। ঘটনায় রীতিমতো হকচকিয়ে ওঠেন গৃহবধূ! কী করবেন বুঝে ওঠার আগেই তাঁকে ওই মহিলার প্রস্তাব, 'বিহারে নাচতে যাবেন!' এহেন প্রস্তাবে আঁতকে ওঠেন ওই মহিলা। প্রস্তাব ফেরাতেই মোটা টাকার প্রলোভন। যা নিয়ে রীতিমতো আতঙ্কিত হয়ে পড়েন ওই বধূ! একেবারে চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করে দেন। সঙ্গে সঙ্গে এলাকার মানুষজন ছুটে আসেন। হাতেনাতে স্থানীয় মানুষজন ওই মহিলাকে ধরে ফেলেন। একেবারে গাছে বেঁধে চলে গণপ্রহার। পরে পুলিশ এসে ওই মহিলাকে গ্রেপ্তার করে। শনিবার এমনই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে গোপালনগর থানার ১৬ নম্বর রেলগেট এলাকায়
ওই গৃহবধূর নাম সাথী রায়। তিনি জানিয়েছেন, এদিন সকালে লক্ষ্য করি অজ্ঞাত পরিচয় এক মহিলাকে বাড়ির আশেপাশে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরি করছে। সেই সময় বাড়িতে কোনও পুরুষ ছিল না। আর সেই সুযোগকেই ওই মহিলা কাজে লাগান বলে অভিযোগ। সাথী বলেন, ''কেউ না থাকার সুযোগে বাড়িতে জোর করে ঢুকে তাঁকে এবং আমাকে জাকে মোটা টাকার বিনিময়ে ভিন রাজ্যে নাচ করতে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়।'' এহেন প্রস্তাবে একেবারেই অবাক হয়ে যান তাঁরা। সঙ্গে সঙ্গে মহিলার প্রস্তাব ফিরিয়েও দেন। কিন্তু অভিযোগ, নাচার জন্য নানা প্রলোভন দেখানো হচ্ছিল। এমনকী ওই মহিলা তাঁদের জোরজবস্তি করছিলেন বলেও অভিযোগ ওই গৃহবধূর। সঙ্গে সঙ্গে সাথী রায় ফোনে তাঁর স্বামীকে গোটা ঘটনা জানান এবং বাড়িতে আসার কথা বলেন। আর তা জানতে পেরেই ওই মহিলা পালানোর চেষ্টা করে বলে অভিযোগ।
মহিলাকে আটকে রেখে চলে মারধর।
কিন্তু সাথীদেবীর চিৎকার চেঁচামেচিতে ততক্ষণে স্থানীয় মানুষজন এসে পড়েন এবং হাতেনাতে ওই মহিলাকে ধরে ফেলেন। স্থানীয়দের দাবি, ওই মহিলা নারী পাচার চক্রের সঙ্গে যুক্ত। ইতিমধ্যে ঘটনায় স্থানীয় গোপালনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তাঁকে। শুরু হয়েছে ঘটনার তদন্তে। কেন এহেন প্রস্তাব তা জানতে ধৃত মহিলাকে দফায় দফায় জেরা করা হচ্ছে।
