নির্বাচনের আগে ফের দলে ফিরে আসা। 'পাপ ধুতে' 'দলবদলু'দের গঙ্গাজলে শুদ্ধ করে ফিরিয়ে নিল তৃণমূলের লোকজন। বিশাল সংখ্যায় দলবদল হল বাঁকুড়ার ওন্দায়। বিজেপি থেকে তৃণমূল কংগ্রেসে ফের দলবদলে চাঞ্চল্য ছড়াল এলাকায়।
বাঁকুড়ার ওন্দা বিজেপির শক্ত ঘাঁটি বলে বেশ কিছু বছর ধরে পরিচিত। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ১১ হাজারের বেশি ভোটে জিতেছিলেন বিজেপি প্রার্থী অমরনাথ শাখা। গত লোকসভা ভোটেও তৃণমূলের থেকে বিজেপি ভোটের ফলাফলের বিচারে এগিয়েছিল। এবার বিধানসভা নির্বাচনে ফলাফল কী হবে? সেই বিষয়ে চর্চা শুরু হয়েছিল। সেই আবহে এবার দলবদল যথেষ্ঠ ইঙ্গিতপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
বাঁকুড়ার গেরুয়া শিবিরে ভাঙন দেখা দিল। বিজেপি থেকে ফের ঘরে ফিরলেন শতাধিক কর্মী। নিকুঞ্জপুর হাইস্কুল মোড়ের সভামঞ্চে ওই দলবদল হয়। বিজেপি ছেড়ে আসা ২০টি পরিবারের শতাধিক সদস্যকে একে একে ডাকা হয় সামনে। কাছেই একাধিক কলসিতে গঙ্গাজল ভর্তি ছিল। দলবদল করে তৃণমূলে ফেরা প্রত্যেককে কার্যত গঙ্গাজলে স্নান করানো হয়! মাইকে উচ্চারিত হয়, "ভুল রাজনীতির পাপ আজ ধুয়ে গেল, মানুষ উন্নয়নের দলে ফিরলেন।” প্রসঙ্গত, তাঁরা আগে তৃণমূল কংগ্রেসেই ছিলেন। একসময় দলবদল করে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। ফের তাঁরা দলবদল করেন।
বাঁকুড়া ২ নম্বর ব্লক তৃণমূল সভাপতি বুদ্ধদেব শর্মা বলেন, “এটা দলবদল নয়, ঘরে ফেরা। গঙ্গাজল পবিত্রতার প্রতীক। মানুষ বিভাজনের রাজনীতি ছেড়ে উন্নয়নের পথে এসেছেন।” পাশে ওন্দার প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক অরূপ খাঁ যোগ করেন, “ভোটের আগে অনেকেই বিবেকের ডাক শুনছেন।” বিজেপির পাল্টা দাবি, “যে দল এত দিন ‘ওয়াশিং মেশিন’ বলে কটাক্ষ করত, তারাই আজ গঙ্গাজল নিয়ে মঞ্চে! এতে ভোটের সমীকরণ বদলাবে না।” তাঁদের অভিযোগ, “এ সবই প্রচারের কৌশল।” বাম শিবিরের কটাক্ষ, ওয়াশিং মেশিন হোক বা গঙ্গাজল—রাজনীতির পাপ এত সহজে ধোয়া যায় না।
