পিলখানায় প্রোমোটার খুনে (Howrah Murder Case) অন্যতম অভিযুক্ত ধৃত হারুন খান ও রফাকাত হোসেন ওরফে রোহিতকে এদিন আদালতে তোলা হল। এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা আদালত ও কোর্ট লকআপের সামনে প্রবল বিক্ষোভ দেখান। ধৃতদের ফাঁসিতে সরব হন বিক্ষোভকারীরা। বিশাল পুলিশ বাহিনী আদালত চত্বর ঘিরে রাখে। বিক্ষোভকারীদের থেকে আড়াল করতে ধৃতদের মাথায় হেলমেট পরিয়ে এজলাসে হাজির করানো হয়।
খুনের ৮দিন পর বৃহস্পতিবার দিল্লি থেকে ধরা পড়ে ঘটনার অন্যতম মূল ২ অভিযুক্ত। দিল্লিতে আদালতে তুলে মূল অভিযুক্ত দু'জনকে ট্রানজিট রিমান্ডে নেওয়ার পর শুক্রবার ভোরে দিল্লি থেকে তাঁদের উড়িয়ে আনা হয় কলকাতায়। গোলাবাড়ি থানা ও হাওড়া সিটি পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ ২ জনকে গ্রেপ্তারের পরই সিআইডির হাতে তুলে দেয়। এরপর সিআইডি শুক্রবার দুপুরে কলকাতার ভবানী ভবন থেকে হারুন ও রোহিতকে হাওড়ায় নিয়ে এসে হাওড়া আদালতে তোলে। আদালত ধৃতদের সাতদিনের সিআইডি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে।
ধৃতদের হাওড়া আদালতে তোলার সময়ই কোর্ট লকআপের সামনে তুমুল বিক্ষোভ দেখান মৃত মহম্মদ শফিকের পরিবার ও পিলখানার বাসিন্দারা। রীতিমতো মৃত প্রোমোটার মহম্মদ শফিকের ছবির প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে বিক্ষোভ দেখানো হয়।
এদিন ধৃতদের হাওড়া আদালতে তোলার সময়ই কোর্ট লকআপের সামনে তুমুল বিক্ষোভ দেখান মৃত মহম্মদ শফিকের পরিবার ও পিলখানার বাসিন্দারা। রীতিমতো মৃত প্রোমোটার মহম্মদ শফিকের ছবির প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে বিক্ষোভ দেখানো হয়। কোর্ট লকআপের সামনে হাওড়া সিটি পুলিশের পদস্থ কর্তাদের নেতৃত্বে মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশ বাহিনী। বিক্ষোভকারীদের দাবি, ২ অভিযুক্তকে সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি দিতে হবে। ধৃতদের এদিন মাথায় হেলমেট পরিয়ে আদালতের ভিতরে নিয়ে যাওয়া হয়।
এদিন দুপুরে ভবানী ভবন থেকে সিআইডির একটি দল গাড়ি করে দুই অভিযুক্তকে নিয়ে হাওড়া আদালতের কোর্ট লকআপে নিয়ে আসে। কোর্ট লকআপে গাড়ি নিয়ে ঢোকার সময় বাধা দেন বিক্ষোভকারীরা। কোনওরকমে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের কাছ থেকে অভিযুক্তদের আড়াল করে কোর্ট লকআপে ঢোকায়। পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের রীতিমতো ধস্তাধস্তি হয়। মৃত মহম্মদ শফিকের পরিবারের এক মহিলা সদস্যা বলেন, ‘‘পুলিশ প্রশাসন ও আদালতের কাছে দাবি হারুন ও রোহিতের যাবজ্জীবন নয়, দু'জনের ফাঁসি চাই। না হলে ওই ২ জন সমাজবিরোধী ছাড়া পেয়ে আবার এলাকায় ঢুকে খুন করবে।’’
কোর্ট চত্বরে চলছে বিক্ষোভ। নিজস্ব চিত্র
এদিন আদালত ধৃতদের ৭দিনের সিআইডি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে। এছাড়াও এদিন এই মামলায় ইতিপূর্বেই পুলিশ হেফাজতে থাকা ধৃত মুন্নাকে আদালতে তোলা হলে তার জেল হেফাজত হয়েছে। এদিন সরকারি কৌঁসুলি তারাগতি ঘটক আরও জানান, ধৃতদের দিল্লির জামা মসজিদের কাছে ‘বিলান গেস্ট হাউস’ থেকে ধরা হয়। কীভাবে ধৃত হারুন ও রোহিত ওখানে পালিয়েছিল, তা নিজেদের হেফাজতে নিয়ে আরও বিস্তারিত জানবে সিআইডি।
অন্যদিকে, ধৃতদের হাওড়া আদালত থেকে গাড়িতে নিয়ে সিআইডি আধিকারিকরা বেরনোর সময়ও গাড়ি আটকে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন পিলখানার বাসিন্দারা। প্রিজন ভ্যান পেটানো হয় বলেও অভিযোগ। অবশেষে হাওড়া সিটি পুলিশের পদস্থ কর্তাদের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী সিআইডির গাড়িতে থাকা মূল অভিযুক্তদের কোনওক্রমে হাওড়া আদালত চত্বর থেকে বার করে দেন। তারপরও আদালত চত্বরে বেশ কিছু সময় চলে বিক্ষোভ। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
