দোল ও হোলিতে সুরাপ্রেমীরা সাধারণত মদ্যপান করেন। স্বাভাবিকভাবেই তাই দোকানে দোকানে লম্বা লাইন পড়ে ক্রেতাদের। এবার রঙের উৎসবের মরশুমে পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় রেকর্ড পরিমাণে মদ বিক্রি হয়েছে। আবগারি দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, পয়লা মার্চ থেকে ৪ তারিখ পর্যন্ত মাত্র চার দিনেই পূর্ব মেদিনীপুরে মোট ৩০ কোটি ১১ লক্ষ টাকার মদ বিক্রি হয়েছে। যার ফলে উৎসবের আবহে মদ বিক্রিতে আবারও রেকর্ড গড়েছে পূর্ব মেদিনীপুর।
পয়লা মার্চ থেকে ৪ তারিখ পর্যন্ত মাত্র চার দিনেই পূর্ব মেদিনীপুরে মোট ৩০ কোটি ১১ লক্ষ টাকার মদ বিক্রি হয়েছে। যার ফলে উৎসবের আবহে মদ বিক্রিতে আবারও রেকর্ড গড়েছে পূর্ব মেদিনীপুর।
পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় দিঘা, মন্দারমণি, তাজপুর-সহ একাধিক জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র রয়েছে। ফলে যে কোনও ছুটির মরশুমেই সমুদ্রের টানে বহু মানুষ ভিড় জমান। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি ভিনরাজ্য থেকেও বহু পর্যটক সেখানে ভিড় জমান। উৎসবের আবহে জেলার বিভিন্ন লাইসেন্সপ্রাপ্ত মদের দোকানে ক্রেতাদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। এই চার দিনে জেলায় মোট ২৮৮টি মদ বিক্রয় কেন্দ্র খোলা ছিল। জানা গিয়েছে, মোট ২ লক্ষ ৭৭ হাজার লিটার বাংলা মদ বিক্রি হয়েছে। বিদেশি মদ বিক্রি হয়েছে ১ লক্ষ ৮৬ হাজার। বিয়ার বিক্রি হয়েছে ১ লক্ষ ৮৫ হাজার লিটার। জেলা আবগারি দপ্তরের সুপার মণীশ শর্মা বলেন, "চলতি মাসের ১ থেকে ৪ তারিখ পর্যন্ত জেলায় প্রায় ৩০ কোটি ১১ লক্ষ টাকার মদ বিক্রি হয়েছে। পাশাপাশি বেআইনি মদের কারবারের বিরুদ্ধে অভিযানে ১৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।"
দোলের আগে রবিবারও পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় মদ বিক্রি হয়েছে প্রচুর। সেদিন মোট ৭ কোটি ২১ লক্ষ ৯ হাজার ৭৫২ টাকার মদ বিক্রি বয়েছে। পরদিন অর্থাৎ ২ মার্চ দেশি মদ বিক্রি হয়েছে ৯৪ হাজার ৮১৩ লিটার। বিদেশি মদ বিক্রি হয়েছে ৬৫ হাজার ৫২৪ লিটার। বিয়ার ৫৪ হাজার ৪৭২ লিটার বিক্রি হয়েছে। মোট পরিমাণ দাঁড়ায় ১০ কোটি ২৪ লক্ষ ৩৬ হাজার ৪০ টাকা। ৩ মার্চ দেশি মদ বিক্রি হয়েছে ৪৮ হাজার ৩৪৯ লিটার। বিদেশি মগ ৩৭ হাজার ৯২০ লিটার এবং বিয়ার ৩৬ হাজার ২৯৮ লিটার বিক্রি হয়েছে। তার ফলে আয় হয়েছে ৫ কোটি ৮৬ লক্ষ ২৯ হাজার ২৭২ টাকা। ৪ মার্চ অর্থাৎ দোলের পরদিন প্রায় ৬ কোটি ৮০ লক্ষ ১২ হাজার ৮৭০ টাকার মদ বিক্রি হয়েছে। তার মধ্যে দেশি মদ ৬৬ হাজার ৬৭৯ লিটার, বিদেশি মদ ৪০ হাজার ২৪৫ লিটার, বিয়ার বিক্রি হয়েছে ৪৪ হাজার ২৮৩ লিটার। সবমিলিয়ে চারদিনে মোট ৩০ কোটি ১১ লক্ষ টাকার মদ বিক্রি হয়েছে। রঙের উৎসবে রঙিন পানীয় বিক্রি বৃদ্ধি বিপুল লাভবান হয়েছে রাজ্য সরকার।
