উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় রাজ্যে মেয়েদের মধ্যে প্রথম, মেধাতালিকায় পঞ্চম স্থান পেয়ে জেলার মুখ উজ্জ্বল করল হুগলির ছাত্রী মেঘা মজুমদার। তার প্রাপ্ত নম্বর ৪৯২। শ্রীরামপুর রমেশচন্দ্র গার্লস স্কুলের ছাত্রী মেঘা মজুমদার, ভবিষ্যতে সিভিল সার্ভেন্ট হয়ে মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করতে চায় মেঘা। বৃহস্পতিবার ফলপ্রকাশের পর মেঘাকে ভিডিও কল করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি মেঘাকে আশীর্বাদ করে বলেন, ‘‘জীবনে অনেক বড় হও। ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ, স্বামী বিবেকানন্দের আশীর্বাদে জীবনের আরও এগিয়ে যাও। মানুষের মতন মানুষ হও।''
কীভাবে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়েছে? কতটা কঠিন ছিল এমন র্যাঙ্ক করা? সাংবাদিকদের এসব প্রশ্নের জবাবে মেঘা জানিয়েছে, ভালো পরীক্ষা হয়েছিল। কিন্তু এত ভালো ফলাফল, রাজ্যে মেয়েদের মধ্যে প্রথম, তা ভাবতে পারেনি। সাফল্যের নেপথ্যে অভিভাবক থেকে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের অবদানের কথা উল্লেখ করেছে সে। মেঘার কথায়, ''তাঁদের সকলের আশীর্বাদ এবং সহযোগিতায় আমি এই জায়গায় আসতে পেরেছি। আমার পড়াশোনার কোনও নির্দিষ্ট সময় ছিল না, কখনও দু-তিন ঘন্টা, আবার কখনও ৬ ঘন্টা পড়াশোনা করেছি। কোনওরকম চাপ ছিল না। আমার প্রিয় সাবজেক্ট ইংরেজি।''
ফলাফল প্রকাশের পরই শ্রীরামপুরের মহকুমাশাসক শম্ভুদীপ সরকার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পক্ষ থেকে ফুল এবং মিষ্টি মেঘের হাতে তুলে দেন। এরপরই তাকে ভিডিও কল করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এত ভালো ফলাফলের জন্য মেঘাকে শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি আশীর্বাদ করেন। বলেন, ‘‘জীবনে অনেক বড় হও। ঠাকুর শ্রীরামকৃষ্ণ, স্বামী বিবেকানন্দের আশীর্বাদে জীবনের আরও এগিয়ে যাও। মানুষের মতন মানুষ হও।''
ভবিষ্যতে ইউপিএসসি পরীক্ষায় বসার ইচ্ছা মেঘার। অবসর সময়ে গান শোনা, সিনেমা দেখা, ছবি আঁকা পছন্দ এই কৃতী ছাত্রীর। বাবার সঙ্গে ফুটবল, ক্রিকেট ম্যাচও দেখতে ভালোবাসে সে। মেয়ের এই সাফল্যে অত্যন্ত খুশি মেঘার মা-বাবা। মা মুনমুন মজুমদার জানালেন, আশা ছিল ও ৪৮৭-র আশপাশে নম্বর পাবে। কিন্তু ফল দেখে খুব খুশি। মেঘার সিভিল সার্ভেন্ট হওয়ার স্বপ্ন পূরণ হোক, তাতেই আনন্দ পাবেন মা-বাবাও। এমনই বলছেন তাঁরা।
