shono
Advertisement
Howrah

শুনানির লাইনে অসুস্থ হয়ে মৃত বৃদ্ধের নাম ভোটার তালিকায়, বাদ পড়ল ২ ছেলে! চাঞ্চল্য হাওড়ায়

এসআইআর শুনানিতে ডাক পেয়েছিলেন বৃদ্ধ। শুনানির লাইনে দাঁড়িয়ে অসুস্থ হয়ে মৃত্যু হয়েছিল ৬৫ বছরের মদন ঘোষের! জানুয়ারি মাসে হাওড়ার লিলুয়ায় ওই ঘটনায় ক্ষোভ ছড়িয়েছিল। চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় দেখা গেল ওই বৃদ্ধের নাম রয়েছে। তবে তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে তাঁর দুই ছেলের নাম!
Published By: Suhrid DasPosted: 07:17 PM Mar 01, 2026Updated: 07:17 PM Mar 01, 2026

এসআইআর শুনানিতে ডাক পেয়েছিলেন বৃদ্ধ। শুনানির লাইনে দাঁড়িয়ে অসুস্থ হয়ে মৃত্যু হয়েছিল ৬৫ বছরের মদন ঘোষের! জানুয়ারি মাসে হাওড়ার লিলুয়ায় ওই ঘটনায় ক্ষোভ ছড়িয়েছিল। চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় দেখা গেল ওই বৃদ্ধের নাম রয়েছে। তবে তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে তাঁর দুই ছেলের নাম! ওই ঘটনায় দুশ্চিন্তা ছড়িয়েছে পরিবারে।

Advertisement

জানুয়ারি মাসে দীর্ঘক্ষণ এসআইআরের লাইনে দাঁড়িয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে মৃত্যু হয়েছিল লিলুয়ার চকপাড়ার বাসিন্দা ৬৫ বছরের মদন ঘোষের! চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ পাওয়ার পর রবিবার দেখা যায়, ভোটার তালিকায় সেই মদন ঘোষের নাম রয়েছে। তবে বিপত্তি অন্য জায়গায়। তাঁর দুই ছেলে, বড় ছেলে সুশান্ত ঘোষ ও ছোট ছেলে দীপঙ্কর ঘোষের নাম তালিকা থেকে বাদ হয়ে গিয়েছে। এদিন মৃত মদনবাবুর বড় ছেলে সুশান্ত ঘোষ বলেন, "বাবা ও দুই ভাইকে শুনানিতে ডেকেছিল নির্বাচন কমিশন। বাবার শুনানির লাইনে দাঁড়িয়ে আতঙ্কে অসুস্থ হয়ে মৃত্যু হয়েছিল। তারপরও দুই ভাই আমরা সমস্ত কাগজপত্র কমিশনের কাছে জমা দিয়েছি। কিন্তু দেখলাম ভোটার তালিকায় আমার মৃত বাবার নাম এল। অথচ আমাদের নাম বাদ পড়ে গেল।"

তাঁর আরও বক্তব্য, "এত ঘটনা ঘটার পরও আমার মৃত বাবার নাম ভোটার তালিকায় কেন উঠল? আমার ও আমার ভাইয়ের নাম কেন বাদ পড়ল? সে ব্যাপারে বিএলও ও বিডিও অফিসে নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বে থাকা আধিকারিকদের জানাচ্ছি।’’ এই প্রসঙ্গে ডোমজুড়ের তৃণমূলের ব্লক সভাপতি তথা হাওড়া জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ জানালেন, ‘‘ওই পরিবারটির তরফে আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি জানিয়েছে। কেন এমন হল, এই সমস্যার সমাধান কীভাবে করা যায়? সেই বিষয়ে বিডিও অফিসে গিয়ে নির্বাচন কমিশনের দায়িত্বে থাকা আধিকারিকদের কাছে জানতে চাইব।’’

এদিন তিনি আরও বলেন, ‘‘যদি সত্যিই এরকম হয়ে থাকে তাহলে বিষয়টি খুবই দুর্ভাগ্যজনক। একদিকে বিজেপি মৃত ভোটারের নাম তালিকায় ঢুকছে বলে চিৎকার করছে। অথচ সেই বিজেপির কথায় চলা নির্বাচন কমিশনও শুনানির লাইনে দাঁড়িয়ে মৃত্যু হওয়া বৃদ্ধের নাম ভোটার তালিকায় তুলে দিচ্ছে! শুধু তাই নয়, সমস্ত কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও কীভাবে বৃদ্ধের দুই ছেলের নাম আবার ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিয়ে দিচ্ছে? সেই প্রশ্নও আমরা দলের তরফে নির্বাচন কমিশনকে করতে চাই।’’

প্রসঙ্গত, মদনবাবু ডোমজুড় বিধানসভা কেন্দ্রের ২৩৫ নম্বর পার্টের ভোটার ছিলেন। লিলুয়ার চকপাড়ায় মদনবাবুর বাড়ি থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরে কোনা বিডিও অফিসে গিয়ে এসআইআরের শুনানির লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। মদনবাবুর বড় ছেলে সুশান্ত ঘোষ বলেন, ‘‘২০০২ সালের ভোটার তালিকায় বাবার নাম ছিল। বাবা প্রতিবারই ভোট দিয়েছে। খসড়া ভোটার তালিকাতে নাম থাকা সত্ত্বেও বাবাকে শুনানির জন্য ডেকে পাঠানো হয়েছিল। শুনানির ডাক পেয়ে দুশ্চিন্তা ও আতঙ্কের মধ্যেই বাবা মারা যায়।’’ তবে মৃত বৃদ্ধের স্ত্রী কল্পনা ঘোষের নাম ভোটার তালিকায় রয়েছে।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement