বাড়ির আর্থিক অবস্থা তেমন স্বচ্ছ নয়। সেসবের মধ্যেই রবিবার মাংস খাওয়ার পরিকল্পনা হয়েছিল। সেই মতো মাংস এসেছিল বাড়িতে। সেই মাংস রান্নার সময়ই ঘটে গেল ভয়াবহ ঘটনা। আগুনে ঝলসে মৃত্যু হল মা ও ছেলের। আগুনে বাড়ির একাংশও পুড়ে গিয়েছে। মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ দিনাজপুরের বংশীহারীতে। মৃত দু'জনের নাম পুতুল মণ্ডল ও বিপ্লব মণ্ডল। ঘটনায় শোকের ছায়া এলাকায়।
জানা গিয়েছে, ওই পরিবারের বাড়ি বুনিয়াদপুর পুরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে। বছর ৩৫-এর বিপ্লব পেশায় রংমিস্ত্রি। মাঝেমধ্যে ভিনরাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেও তিনি যান। দিন কয়েক হল তিনি বাড়িতেই রয়েছেন। বিপ্লবের বাবা গুড় তৈরি করেন। বোনের বিয়ে হয়ে গিয়েছে। মা গৃহবধূ। আজ, রবিবার মাংস খাওয়ার পরিকল্পনা হয়েছিল। সেই মতো বিপ্লব নিজেই বাজার থেকে মাংস কিনে এসে রান্নার আয়োজন করেছিলেন। নিজেই রান্না করতে গিয়েছিলেন বিপ্লব।
কিন্তু সিলিন্ডার অন করে গ্যাস জ্বালাতেই ঘটে যায় বিপত্তি। নিমেষে আগুন ধরে যায় বিপ্লবের গায়ে। ছেলেকে বাঁচাতে ছুটে গিয়েছিলেন মা। তাঁর গায়েও আগুন ধরে যায়। মা ও ছেলে ঘরের মধ্যে জ্বলতে থাকেন। আর্তনাদ শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে যান সেখানে। মার্সিবল চালিয়ে আগুন নেভানো হয়। মা ও ছেলে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে। কিন্তু চিকিৎসকরা জানিয়ে দেন আগেই মৃত্যু হয়েছে ওই দু'জনের।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় বংশীহারী থানার পুলিশ। জানা গিয়েছে, আগুন লাগলেও সিলিন্ডার ফেটে বিস্ফোরণ হয়নি। তবে রান্নাঘর ও ঘরের একাধিক আসবাব আগুনে পুড়ে গিয়েছে। সিলিন্ডারে বিস্ফোরণ হলে আগুন আরও ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা ছিল। তেমনই আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। গ্যাস কি কোনওভাবে লিক করেছিল? দেশলাই দিয়ে আগুন ধরাতেই ঘটে যায় ওই মর্মান্তিক ঘটনা? পুলিশ সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখছে। স্ত্রী ও ছেলেকে হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন বীরেন মণ্ডল।
