ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া চলাকালীন মৃত্যু আরও এক বিএলও-র। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু কামারহাটি পুরসভা এলাকার বিএলও-র। শনিবার প্রকাশিত চূড়ান্ত তালিকায় বিচারাধীন ভোটার হিসাবে নাম আসে তাঁর। এছাড়াও একাধিক ভোটারের নাম বাদ যাওয়া বা বিচারাধীন থাকায় লাগাতার ফোন আসতে। এই চাপ সহ্য করতে না পেরে রবিবার সকাল ১০টা নাগাদ তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলেই দাবি।
মৃত বিএলওর নাম মহম্মদ তাহির। বয়স ৫০ বছর। তিনি কামারহাটি পুরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের আনোয়ার বাগান এলাকার বাসিন্দা। তাহির ৬৯ নম্বর বুথের বিএলও-র দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি ৫৭ থেকে ৬৪ বুথের সুপারভাইজার হিসাবেও দায়িত্ব পেয়েছিলেন। বারংবার কাজের প্রবল চাপের কথা বলতেন পরিবার ও পরিচিতদের। রবিবার বাড়ির সামনে বসেছিলেন তিনি। সেই সময় হৃদরোগে আক্রান্ত হন। ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
তাঁর প্রতিবেশী নিজামুদ্দিন বলেন, "বিএলওর দায়িত্বের পাশাপাশি কয়েকটি বুথের সুপারভাইজার ছিলেন তাহির। চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর তাঁর কাছে একাধিক ফোন আসে। অনেকেই নাম বাদ বা সেই সংক্রান্ত অভিযোগ জানাতে থাকেন। এদিকে ওঁর নিজের নামও বিচারাধীন হিসাবে রয়েছে। কমিশনের চাপ, ভোটারদের চাপ, একটা মানুষ কত চাপ নেবে। সাড়ে দশটা ১১টা নাগাদ অ্যাটাক। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়।"
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান স্থানীয় তৃণমূল নেতা মহম্মদ ইমতিয়াজ। তিনি বলেন, "তাহির স্থানীয় মুসলিম ইউপি স্কুলের সহকারী শিক্ষক ছিলেন। অনেক চাপের মধ্যে কাজ করছিলেন। গতকালের চূড়ান্ত তালিকায় কী হয়েছে সবাই জানে। ভোটাররা ফোন করছিলেন। ওঁর নামও বিচারাধীন ছিল। সেই চাপেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু।"
