মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের জেরে জ্বালানি সংকট দেখা গিয়েছে ভারতে। রান্নার গ্যাসের সিলিন্ডার অপ্রতুল হয়ে উঠেছে বাংলায়। সিলিন্ডার না পেয়ে বন্ধ হতে শুরু করেছে হোটেল, রেস্তরাঁ। গ্যাস সিলিন্ডারের সংকট দেখা দিল খড়্গপুর আইআইটিতে। ১৫ হাজার পড়ুয়া আবাসিক হিসেবে থাকেন সেখানে। ফলে জ্বালানি সংকট (LPG Cylinder Crisis) দেখা দেওয়ায় দুশ্চিন্তায় আইআইটি কর্তৃপক্ষ। এই পরিস্থিতিতে আবাসিকদের জন্য উনুনে কাঠের জ্বালানিতে রান্না শুরু হয়েছে। কিন্তু এভাবে কতদিন? পরিস্থিতি উন্নতির জন্য মেদিনীপুরের জেলাশাসকের কাছে চিঠি দিয়েছে আইআইটি কর্তৃপক্ষ।
কাঠের জ্বালানিতে চলছে রান্না। ছবি- সংগৃহীত।
জানা গিয়েছে, আইআইটিতে মোট ১৫ হাজার আবাসিক আছেন। প্রতিদিন তিন বেলা খাবারের ব্যবস্থা হয়। ২০টি হলে আবাসিকরা থাকেন। জানা গিয়েছে, ক্যাম্পাসে রান্নার কাজের জন্য প্রতিদিন গড়ে ১০৪টি গ্যাসের সিলিন্ডার দরকার হয়। কিন্তু এই যুদ্ধের আবহে এখন এই সিলিন্ডার সরবরাহ ব্যবস্থায় কিছুটা বাধা তৈরি হওয়ায় সঙ্কট দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, গ্যাস সিলিন্ডার যা মজুত রয়েছে, তাতে দুই থেকে তিনদিন চলবে। আর এই গ্যাস সিলিন্ডারের যোগান ব্যাহত হলে একাধিক প্রভাবের বিষয়টি চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়েছে এর ফলে আইআইটির মধ্যে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সমস্যা তৈরি হতে পারে। পড়াশোনার ব্যাঘাতের আশঙ্কাও করা হচ্ছে।
প্রতীকী ছবি।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইতিমধ্যে আইআইটির আজাদ হলে কাঠের উনুনে রান্না শুরু হয়ে গিয়েছে। প্রতিদিনের খাবারের ধরনে পরিবর্তন আনা হয়েছে। আপাতত ভাজাভুজির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। বিভিন্ন ছাত্র আবাসনে রান্নার দায়িত্বে থাকা এজেন্সিগুলিকে বৃহস্পতিবার ডেকে বলে দেওয়া হয়েছে গ্যাস ব্যবহারের ক্ষেত্রে সাবধানী ও সংযমী হতে হবে। খড়গপুর আইআইটির অধিকর্তা অধ্যাপক সুমন চক্রবর্তী বলেন, "আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে পরিস্থিতি যদি হাতের বাইরে চলে যায়, তাহলে পড়ুয়াদের খাবারে যাতে প্রভাব না পড়ে সেজন্য বিকল্প ব্যবস্থা সমান্তরালভাবে চালু করার কথা বলা হয়েছে। ইতিমধ্যে কয়েকটি হলে কাঠের উনুন চালু করা হয়েছে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে। প্রয়োজন হলে কেন্দ্রীয়ভাবে রান্না করে সবক'টি হলে খাবার সরবরাহের কথাও মাথায় রাখা হয়েছে। তবে ইতিমধ্যে গ্যাস সিলিন্ডার সরবরাহ অক্ষুণ্ণ রাখতে জেলাশাসকের কাছে চিঠি দিয়েছি।"
পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইতিমধ্যে আইআইটির আজাদ হলে কাঠের উনুনে রান্না শুরু হয়ে গিয়েছে। প্রতিদিনের খাবারের ধরনে আনা হয়েছে পরিবর্তন। আপাতত ভাজাভুজির উপর নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে।
এদিকে এই ব্যাপারে খড়গপুর মহকুমা শাসক জ্যোতি ঘোষ বলেন, "রাজ্য সরকার এই ব্যাপারে যথেষ্ট ওয়াকিবহাল। আইআইটির মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতে গ্যাস সিলিন্ডার সঙ্কট না হয়, সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গ্যাস সরবরাহকারী বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে কথা হয়েছে জেলা প্রশাসনের তরফে।" রাজ্যের একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আবাসিকদের ক্যান্টিন চালানোর ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দিচ্ছে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের হস্টেল, প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়েও খাবারের লিস্টে কাটছাঁট করা হচ্ছে বলে খবর।
