shono
Advertisement
Darjeeling

যুদ্ধের আঁচ দার্জিলিংয়ের স্ট্রিট ফুডে! গ্যাসের অভাবে বন্ধ হচ্ছে ধোঁয়া ওঠা মোমো-চাইনিজের স্টল

ভরা পর্যটন মরশুমে বাণিজ্যিক এলপিজি গ্যাস আকালের ধাক্কায় উধাও হতে বসেছে দার্জিলিংয়ের জনপ্রিয় স্ট্রিট ফুড। একের পর এক দোকান বন্ধ হচ্ছে। ফলে অনেক পর্যটকের বরাতে জুটছে না গরম ধোঁয়া ওঠা মোমো, থুকপা, শাফালে।
Published By: Suhrid DasPosted: 06:14 PM Mar 13, 2026Updated: 06:14 PM Mar 13, 2026

ভরা পর্যটন মরশুমে বাণিজ্যিক এলপিজি গ্যাস আকালের ধাক্কায় উধাও হতে বসেছে দার্জিলিংয়ের জনপ্রিয় স্ট্রিট ফুড। একের পর এক দোকান বন্ধ হচ্ছে। ফলে অনেক পর্যটকের বরাতে জুটছে না গরম ধোঁয়া ওঠা মোমো, থুকপা, শাফালে। অনেক খুঁজে পেতেও মিলছে না গরম আলুরদম, চুরপি, সেল রুটি, দার্জিলিং চা ও হট চকোলেট।

Advertisement

শৈলশহরে বেড়াতে গিয়ে পাহাড়ি খাবার চেখে দেখেননি এমন বাঙালি হাতে গোনা। প্রায় প্রত্যেকে ভরা বসন্তে নাতিশীতোষ্ণ পরিবেশে নৈসর্গিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি ম্যাল থেকে চক বাজার ঘুরে তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করেছেন গরম ধোঁয়া ওঠা মোমো কিংবা স্পাইসি থুকপা। চকবাজারে ঢুঁ মারতে মিলেছে বিখ্যাত আলুরদম ও সেল রোটি। মশলার সঙ্গে ভাজা আলু এবং মিষ্টি নেপালি রুটি দুইয়ের মিলনে তৈরি এক অনন্য রসিপি। পাহাড়ি চিজ চুরপি আর নেপালি গুন্দ্রুক স্যুপ কিংবা কিনেমা কারি তো আছেই। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে বিধ্বংসী যুদ্ধের জেরে এলপিজি গ্যাসের আকাল দেখা দিতে রাস্তার ধারে ফুটপাতের দোকানগুলো উঠে যেতে বসেছে।

দার্জিলিংয়ের জনপ্রিয় স্ট্রিট ফুডের অন্যতম হল চক বাজারের শাফালে। তিব্বতের ঐতিহ্যবাহী ওই খাবার স্টিম ডাম্পলিং, ভেতরে পুর হিসাবে থাকে মাংস অথবা সবজি। শাফালে বিক্রেতা গোপাল লামার দোকান বন্ধ হয়েছে বুধবার। তিনি বলেন, "কী করব লাইনে দাঁড়িয়েও কমার্শিয়াল গ্যাস সিলিন্ডার পাচ্ছি না। গ্যাস ছাড়া খাবার তৈরি করব কেমন করে। তাই বন্ধ রেখেছি।" একই কারণে পর্যটকরা চেখে দেখার সুযোগ পাচ্ছেন না দার্জিলিংয়ের জনপ্রিয় ব্রেকফাস্টের মধ্যে অন্যতম ভাত, মশলা এবং সবজি দিয়ে তৈরি ঐতিহ্যবাহী নেপালি খাবার চামালং। কিছুদিন আগেও ম্যাল রোড এবং চক বাজার সন্ধ্যায় আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠত স্ট্রিট ফুডের সমারোহে।

দার্জিলিংয়ের রাস্তায় খাবারের দোকান। নিজস্ব চিত্র

মোমো, মাংসে ভরা ডাম্পলিংয়ের মতো জনপ্রিয় খাবার শহরের বিভিন্ন প্রান্তে মিলেছে। ক্রমশ সবই উধাও হতে বসেছে। আগের মতো সন্ধ্যায় ম্যাল রোড এবং চকবাজার স্ট্রিট ফুডের সম্ভারে সেজে উঠেছে না। হাতে গোনা কিছু দোকান টিমটিম করে চলছে। চাইনিজ স্প্রিং রোল বিক্রেতা রোমা সুব্বা বলেন, "গ্যাস মিলছে না। খাবার তৈরির পরিমাণ কমিয়েছি। জানি না এভাবে কতদিন দোকান চলবে। কারণ, কাঠের উনুনে এই খাবার তৈরি করা সম্ভব নয়। অনেকে নিরুপায় হয়ে কেরোসিনের স্টোভ কিনে কাজ চালাচ্ছে।"

মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ধাক্কায় হিমালয়ের কোলে 'কুইন অব হিল'-এর পরিস্থিতিও এখন এতটাই উদ্বেগজনক হয়েছে যে বেড়াতে গিয়ে মন খুলে সেখানকার খাবারের স্বাদ নিতে অনেকেই পারছেন না। শহরের এক রাস্তা থেকে অন্য রাস্তায় ঘুরে স্ট্রিট ফুডের দোকান মিলছে না। রাজ্য ইকো ট্যুরিজম কমিটির চেয়ারম্যান রাজ বসু বলেন, "এখন কাঠের জ্বালানি শহরের কেউ ব্যবহার করে না। দার্জিলিং শহরের স্ট্রিট ফুড ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে। কিন্তু সবই এখন গ্যাসওভেন নির্ভরশীল। বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডার চেয়েও মিলছে না। দোকানগুলো চলবে কেমন করে। এদিকে স্ট্রিট ফুড না থাকলে ম্যাল, চক বাজারের আকর্ষণ অনেকটাই কমবে।"

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement