তপন বন্দ্যোপাধ্যায়, বসিরহাট: বাড়িতে স্ত্রী রয়েছেন। তিনি আবার অন্তঃস্বত্ত্বা। এর মধ্যে এলাকার এক কিশোরীর সঙ্গে বিবাহ বর্হিভূত সম্পর্ক তৈরি করেছিলেন যুবক। ওই কিশোরীর সঙ্গে সম্পর্ক ছিল এলাকার আরও এক যুবকের। দুই যুবকে আবার খুব ভাল বন্ধু। কিশোরীকে নিয়ে টানাপোড়েনের জেরে খুন হলেন এক যুবক। উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়ার এই ঘটনায় পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে।
[শ্যালিকার ‘শ্লীলতাহানি’ রুখতে গিয়ে আক্রান্ত জামাইবাবু]
মৃতের নাম কওসর গাজি ওরফে কালু (২৭)। গত চার ফেব্রুয়ারি থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। এর পরের দিন সকালে বাদুড়িয়া থানার আটঘরা গ্রামের একটি কলাবাগানের মধ্যে থেকে পুলিশ কওসারের মৃতদেহ উদ্ধার করে। পুলিশ তদন্তে শুরু করতেই বুঝতে পারে বন্ধুরাই খুন করেছে কওসরকে। মৃত যুবকের কয়েকজন বন্ধুকে জেরা করে পুলিশ। তাদের থেকে আদহাম মণ্ডল নামে প্রতিবেশী এক যুবকের নাম জানা যায়। পেশায় দরজি আদহামের সঙ্গে কালু গাজির বন্ধুত্ব ছিল। দুই বন্ধু নিয়মিত রাতের দিকে গ্রামের এক কলাবাগানের মধ্যে মদ ও জুয়ার আসরে যোগ দিত। পুলিশ আদহামকে আটক করে জেরা করতেই আসল খবর বেরিয়ে আসে। খুনের কথা সব স্বীকার করে নেয় আদহাম। পুলিশি জেরায় ভেঙে পড়ে সে জানায় প্রতিবেশী এক কিশোরীকে সে ভালবাসে। বহুদিন ধরে মেয়েটির সঙ্গে তার প্রেম চলছিল। আদহামের দাবি সম্প্রতি তার বন্ধু কালুর কুনজর পড়ে প্রেমিকার উপর। আদহাম তার বন্ধুর আচরণের প্রতিবাদ করলে কালু ওই কিশোরীর উদ্দেশ্যে অশ্লীল মন্তব্য করে। এরপরই আদহাম খেপে গিয়ে কলাবাগানের মধ্যেই বন্ধুর গলায় দড়ির ফাঁস লাগিয়ে শ্বাসরোধের পর তাকে খুন করে। শনিবার পুলিশ আদহাম মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করে। ধৃতকে চার দিনের পুলিশ হেফাজতে পাঠিয়েছে বসিরহাট মহকুমা আদালত।
[সোনারপুর পুলিশের সাফল্য, ১২ ঘণ্টার মধ্যে উদ্ধার অপহৃত তরুণী]
পুলিশ জানতে পেরেছে মৃত কালুর স্ত্রী রয়েছে। তারপরও সে অন্য এক কিশোরীর সঙ্গে সম্পর্ক চালিয়ে যেতে চেয়েছিল। ওই কিশোরীকে নিয়েই অশান্তির সূত্রপাত। এমনকী প্রেমিকাকে নিয়ে বাংলাদেশে পালানোর ছক ছিল ধৃতের। বেশ কয়েক বছর আগে আদহাম বাংলাদেশ থেকে চোরাপথে এদেশে ঢুকেছিল। তার উপর যাতে কেউ সন্দেহ না করে তার জন্য এলাকা ছেড়ে কোথাও আদহাম যায়নি। আদহামের মধ্যে অপরাধ প্রবণতা অনেক দিনের। ছেলেবেলায় সে তার বাবাকেও খুন করেছিল বলে অভিযোগ।
