এইমসে হয়নি! অসাধ্য সাধন করল কল্যাণী জওহর নেহরু মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল। চোখ ও মুখের জটিল চোখের অস্ত্রোপচারে সাফল্য পেল জেলা হাসপাতাল। পুরো চিকিৎসা হয়েছে বিনামূল্যে। তিন মাস পর অস্ত্রোপচারে চোখ ফিরে পেয়ে যুবক বলছেন যেন নতুন জীবন পেলেন তিনি!
উত্তর ২৪ পরগনার কাঁচরাপাড়ার বাসিন্দা বিশ্বনাথ দাস। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসের ৮ তারিখ গাড়ি চালানোর সময় একটি ডাম্পার সঙ্গে ধাক্কা লাগে। পথ দুর্ঘটনায় ডান চোখের উপরের অংশ ও চোখে গুরুতর আঘাত পান তিনি। তড়িঘড়ি তাঁকে ভর্তি করা হয় কল্যাণীর জেএনএম মেডিক্যালে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় কল্যাণী এইমসে নিয়ে যান পরিবারের সদস্যরা। সেখানে চোখের উপরের অংশের চিকিৎসা হয়। কিন্তু ভিতরের অংশের কোনও চিকিৎসা হয়নি বলে অভিযোগ বিশ্বনাথের পরিবারের।
রোগীর পরিবারের দাবি, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ৩৫ হাজার টাকার বেশি খরচ হতে পারে বলে জানিয়েছিল। পরে জানানো হয়েছে, এই মুহূর্তে 'যোগ্য' চিকিৎসক নেই। কখনও বলা হয়েছে এই বিরল অস্ত্রোপচারের ব্যবস্থা নেই। আবার কখনও বলা হয়েছে পরে আসুন। প্রায় তিন মাস অস্ত্রোপচার না হওয়ায় সমস্যাও বাড়তে থাকে। কেন্দ্রীয় হাসপাতালে 'ঠিকঠাক' চিকিৎসা না পেয়ে, পরিবারের সদস্যরা বিশ্বনাথকে ফের নিয়ে আসেন কল্যাণীর জেএনএম হাসপাতালে। হাসপাতালের ইএনটি বিভাগে দেখানো হয়।
সমস্যা শনাক্ত করার পর হাসপাতালে চার সদস্যের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল তৈরি করে। দুর্মূল্য টাইটেনিয়াম প্লেট ব্যবহার করে, প্রায় তিন ঘণ্টার জটিল অস্ত্রোপচারে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পুনর্গঠন করা হয়। ডাঃ কুশল চট্টোপাধ্যায়ের তত্ত্বাবধানে সফলভাবে অস্ত্রোপচার হয়। চিকিৎসকদের মতে, তিন মাস পর এমন জটিল অস্ত্রোপচার করা বড় চ্যালেঞ্জ।
অস্ত্রোপচারের পর। নিজস্ব চিত্র
হাসপাতালের ডেন্টাল বিভাগের চিকিৎসক ম্যাক্সিলোফেসিয়াল সার্জন কুশল চট্টোপাধ্যায় জানান, "ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ৩ মাস পর এমন জটিল অস্ত্রোপচার করা বড় চ্যালেঞ্জ। তবে অপারেশন সফল হয়েছে।" এই অপারেশনে সম্পূর্ণভাবে সহযোগিতা করেন এই বিভাগের ডাঃ প্রোটন ঘোষ, আকাশ অধিকারী, প্রফেসর ইন্দ্রজিৎ পাল, হাসপাতাল প্রিন্সিপাল, সুপার। ছয় সপ্তাহের মধ্যে বিশ্বনাথবাবু পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠবেন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। সফল অস্ত্রোপচারে খুশি রোগী ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। ধন্যবাদ জানিয়েছেন হাসপাতালে চিকিৎসকদের। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় হাসপাতাল এইমস হাসপাতালের চিকিৎসা পরিষেবা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা।
