লাভপুরের কুয়ে নদীতে হু হু করে বাড়ছে জল। আতঙ্কে লাভপুরের ১৫ গ্রাম। জল বাড়তেই বিপর্যস্ত জনজীবন, কীর্ণাহারের সঙ্গে বিচ্ছিন্ন। বাঁধ ভাঙার আতঙ্কে রাতের ঘুম উধাও। নৌকাই এখন একমাত্র ভরসা। ঝাড়খণ্ডে টানা অতিবৃষ্টির জেরে ফের ফুলে-ফেঁপে উঠেছে কুয়ে নদী। জল উঠে এসেছে কান্দরকুলা থেকে বাগসিনা যাওয়ার রাস্তার উপর। পরিস্থিতি বিপজ্জনক হওয়ায় কীর্ণাহার থানার পুলিশ ওই রাস্তা দিয়ে যাতায়াত বন্ধ করে দিয়েছে। ফলে লাভপুরের ওই বিস্তীর্ণ এলাকার সঙ্গে কীর্ণাহারের সড়ক যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন।
সাধারণ মানুষ থেকে স্কুলপড়ুয়া-জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এখন নৌকাতেই নদী পারাপার করতে হচ্ছে। প্রতি বছর বর্ষায় কুয়ে নদীর জল বাড়লেও এ বার পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে ঠিবা ও জামনা এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ফের নদীতে ব্যাপক হারে জল বাড়তে শুরু করে। এর জেরে কান্দারকুলা, জয়চন্দ্রপুর, চতুর্ভুজপুর, খাপুর-সহ ঠিবা অঞ্চলের প্রায় ১৫টি গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে বাঁধ ভেঙে প্লাবনের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্কুলপড়ুয়া, চাকরিজীবী থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে যাতায়াতকারী সাধারণ মানুষ-সকলকেই বিকল্প পথ যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছেন। স্থানীয় প্রশাসন নৌকার ব্যবস্থা করায় কিছুটা স্বস্তি মিললেও নদী পারাপারে ঝুঁকি বাড়ছে। স্থানীয় বাসিন্দা জামাল শেখ ও আকতার আলি বলেন, "খুব অসুবিধার মধ্যে পড়েছি। লাঘাটা দিয়ে ঘুরে যেতে হচ্ছে। নৌকা চালু হওয়ায় কিছুটা সুবিধা হয়েছে। ঝুঁকি থাকলেও বাধ্য হয়ে মানুষজন নৌকায় পারাপার করছেন।" কুয়ে নদীর জলস্তর আরও বাড়লে পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির আশঙ্কা থাকায় প্রশাসনের নজর এখন নদী ও সংলগ্ন বাঁধগুলির দিকেই। আর আতঙ্কের মধ্যেই রাত কাটাচ্ছেন নদীপাড়ের গ্রামের বাসিন্দারা।
