আরও বিপাকে তৃণমূল কংগ্রেসের সাসপেন্ডেড বিধায়ক তথা জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর (Humayun Kabir)! এবার জলা জমির উপর 'বেআইনি'ভাবে বাড়ি তৈরির অভিযোগ। আর সেই অভিযোগে হুমায়ুনপত্নী মিতা সুলতানাকে নোটিস পাঠালো ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর। সাতদিনের মধ্যে যথাযথ উত্তর না পেলে আইনি পদক্ষেপ করা হবে বলেও জানানো হয়েছে। যদিও বুধবার দুপুর পর্যন্ত এমন কোনও চিঠি পাননি বলেই জানিয়েছেন হুমায়ুন কবীর। তাঁর কথায়, ''আমি শুনেছি ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর থেকে আমার স্ত্রীর নামে একটি চিঠি ইস্যু করা হয়েছে। কিন্তু সেই চিঠিতে কী লেখা রয়েছে আমি জানি না। বুধবার দুপুর পর্যন্ত আমরা সেই চিঠি হাতে পাইনি।" তবে বাড়িটির জমির চরিত্র ভূমি সংস্কার দপ্তরের খাতায় 'নালা' হিসেবে চিহ্নিত করা রয়েছে তা কার্যত মেনে নিয়েছেন ভরতপুরের বিধায়ক।
মুর্শিদাবাদের মানিক্যহার গ্রামে হুমায়ুন কবীরের বাড়ি। সেটি স্ত্রী মিতা সুলতানার নামে নথিভুক্ত। আর সেই বাড়িটি নিয়েই যাবতীয় বিতর্ক। অভিযোগ উঠছে, জমির চরিত্র বদল না করেই বাড়িটি তৈরি করা হয়েছে। এমনকী 'নালা' অর্থাৎ জলাশয়ের উপরেই বাড়িটি তৈরি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ। হুমায়ুনপত্নীকে পাঠানো লিখিত নোটিসে জানানো হয়েছে, মানিক্যহার মৌজায় জে এল নম্বর ৯২, প্লট নম্বর ৪৪০৪-এ প্রায় ০.২ একর জমির চরিত্র বেআইনিভাবে পরিবর্তন করা হয়েছে। এই মর্মে একটি গণ স্বাক্ষর করা অভিযোগ পত্র জমা পড়েছে। বেআইনিভাবে জমির চরিত্র পরিবর্তন করার জন্য আগামী সাত দিনের মধ্যে হুমায়ুন পত্নীকে উত্তর দিতে বলা হয়েছে। উত্তর না পেলে কেন তাঁর বিরুদ্ধে ডব্লিউবিএলআর আইন ১৯৫৫ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে না তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।
এই প্রসঙ্গে জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, 'নালা' প্রকৃতির জমি বলতে সাধারণত জল নিষ্কাশনের ছোট খাল বা ডোবাকে বোঝায়। যা জলাশয় কিংবা কৃষি জমির অংশ হিসেবে গণ্য হয়। আইনত নালা ভরাট করা বা তার চরিত্র পরিবর্তন বেআইনি। ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের অনুমতি ছাড়া এর ব্যবহার পরিবর্তন করা যায় না। কিন্তু বাড়িটি তৈরির ক্ষেত্রে আইনকে অমান্য করা হয়েছে বলেই অভিযোগ ওই আধিকারিকের। যদিও যে বাড়ি নিয়ে যাবতীয় বিতর্কে সেখানে ১৭-১৮ বছর ধরে থাকছেন বলেই জানিয়েছেন হুমায়ুন কবীর। শুধু তাই নয়, বাম আমলে জমির চরিত্র পরিবর্তন করে 'ভিটে' করার জন্য একাধিকবার যে সরকারি দরজায় ঘুরেছেন তা জানান তিনি।
হুমায়ুন কবীর বলেন, "শক্তিপুর থানার মানিক্যহার গ্রামে যে বাড়িটি নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে সেখানে আমি প্রায় ১৭-১৮ বছর ধরে থাকি। ২০০৩ সালে স্থানীয় ঠাকুর পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে আমি ওই জায়গাটি কিনেছিলাম। এরপর ২০০৭ সাল থেকে পরিবার নিয়ে ওই বাড়িতে থাকছি। বাড়িটি আমার স্ত্রীর নামে নথিভুক্ত রয়েছে।'' তাঁর কথায়, বাড়িটির জমির চরিত্র ভূমি সংস্কার দপ্তরের খাতায় 'নালা' হিসেবে চিহ্নিত করা রয়েছে। বাম আমলে ওই জমির চরিত্র পরিবর্তন করে 'ভিটে' করার জন্য আমি বহুবার বিএলআরও এবং এসডিএলআরও অফিসে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় 'ফি' জমা দিয়েছিলাম। এরপর একাধিকবার ওই অফিসে ঘোরার পরও আমার আবেদন মঞ্জুর হয়নি।'' হুমায়ুনের কথায়, বাড়ি তৈরির সময় প্রশাসনের তরফে কেউ কোনও কথা বলেনি। এখন যেভাবে স্ত্রীকে নোটিস পাঠানো হয়েছে তাতে প্রতিহিংসাই দেখছেন জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান। তাঁর অভিযোগ, ''তৃণমূল কংগ্রেস ত্যাগ করে নতুন দল করার জন্য আমার বিরুদ্ধে প্রতিহিংসামূলক আচরণ করা হচ্ছে।"
