বয়স মাত্র ছ'বছর।রাজনৈতিক পরিবারে বেড়ে ওঠা। এই বয়সে যখন অনেকে শিশুরই ভয় কাটে না, তখন মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে সটান রাজনৈতিক মঞ্চে। শুধু তাই নয়, দুঁদে রাজনৈতিক নেতাদের সামনেই মাইক হাতে রাজ্য ও দেশের বতর্মান পরিস্থিতি নিয়ে চৌখস বক্তব্য রাখে সে। সেই ভিডিও এই মুহূর্তে ভাইরাল। সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় তুলল মুর্শিদাবাদ জেলার জিয়াগঞ্জের খুঁদে আর্যায়ন ঘোষ ওরফে পাপান। প্রদেশ কংগ্রেসের প্রাক্তন সাংসদ অধীররঞ্জন চৌধুরী খুঁদের বক্তব্যে মোহিত হয়েছেন। ওই শিশুর বক্তব্য শোনার পর জড়িয়ে ধরে আর্শীবাদ করলেন। আর্যায়নকে ভালোমানুষ হওয়ার পরামর্শ দিলেন অধীর। সোশাল মিডিয়াতেও সাড়া ফেলে দিয়েছে এই শিশুর ভিডিও। কিন্তু কে এই শিশু কংগ্রেসি?
মুর্শিদাবাদ বিধানসভার জিয়াগঞ্জ শহর কংগ্রেস সভাপতি অনিরুদ্ধ ঘোষ। তাঁর স্ত্রী মল্লিকা ঘোষ। ঘোষ দম্পতির সন্তান খুঁদে আর্যায়ন ঘোষ। একটি বেসরকারি স্কুলের প্রথম শ্রেণির ছাত্র। ছোটবেলা থেকে তাঁর আবৃত্তি, গল্পের বইপড়া ও তাৎক্ষণিক বক্তৃতায় অংশ গ্রহণ করা। ছেলের এই আগ্রহকে উৎসাহ জুগিয়েছেন ঘোষ দম্পতি। দিন কয়েক আগে জিয়াগঞ্জ টাউন কংগ্রেসের রাজনৈতিক কর্মী সম্মেলন ছিল। প্রধানবক্তা হিসাবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল বহরমপুরের প্রাক্তন সাংসদ অধীররঞ্জন চৌধুরীর। ছোট্ট আর্যয়ন বাবার কাছে আবদার রাখেন কর্মী সম্মেলনে সে বক্তব্য রাখবে। সন্তানের এই আবদার ফেলতে পারেননি বাবা অনিরুদ্ধ ঘোষ। কর্মী সম্মেলনে বাবার সঙ্গে সাদা পায়জামা-পাঞ্জাবি পরে কর্মী সম্মেলনে হাজির সে।
মঞ্চে বক্তব্য রাখছে ওই খুদে।
মঞ্চে বসে অধীররঞ্জন চৌধুরী থেকে জেলা কংগ্রেসের সভাপতি মনোজ চক্রবর্তী-সহ জেলা নেতৃত্ব। মাইক্রোফোন হাতে নিয়ে আর্যায়ন শুরু করল, "আমাদের প্রিয় নেতা লোকসভার প্রাক্তন দলনেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী। সকল নেতৃত্ববৃন্দ ও সংগ্রামি মুর্শিদাবাদ জেলাবাসিকে বিপ্লবী শুভেচ্ছা। আজ আমরা দাঁড়িয়ে আছি ঐতিহাসিক মুর্শিদাবাদ শহরে। যে মাটি স্বাধীনতার ও গণতন্ত্রের স্বাক্ষী। এই মুর্শিদাবাদ কখনও অন্যায়ের কাছে মাথা নত করেনি।আজও করবে না। আজ দেশের মানুষ ভয়, বেকারত্ব, মূল্যবৃদ্ধি আর বিভাজনের রাজনীতিতে জর্জরিত। সংবিধান আক্রান্ত। অধিকার প্রশ্নের মুখে। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে শিক্ষা, চিকিৎসা, ব্যবস্হার করুণ চিত্র। স্কুলে শিক্ষক নেই। বই নেই। ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। হাসপাতালে বেড নেই। ডাক্তার নেই। চিকিৎসার অভাবে মানুষ কাঁদছে।এই অবস্থায় ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস একমাত্র শক্তি যে মানুষের পাশে থেকে লড়াই করেছে।"
অধীর চৌধুরী বলেন, "এখন তোমার লক্ষ্য লেখাপড়া। ভালোভাবে পড়াশোনা করে বড় হও। আর্দশ মানুষ হও। এই আমার আর্শীবাদ।"
বক্তব্য শেষ হতেই জিয়াগঞ্জ শহরের প্রেক্ষাগৃহ ভর্তি কংগ্রেস কর্মীদের হাততালিতে মুখরিত হয়ে উঠল। আপ্লুত অধীর উঠে ফুলের স্তবক নিয়ে আর্যায়নকে অভিনন্দন জানালেন। আর্শীবাদ করলেন। অধীর কর্মী সম্মেলনে সেরা বক্তা হিসাবে আর্যায়নকে তকমা দিয়ে আর্শীবাদ করে বলেন, "কেউ ভোট দিক আর না দিক কংগ্রেসকে। লালবাগ থেকে একটা ভোট আগামী দিনে পাবে, সেটা আর্যায়নের। আমি আর্যায়নকে বলব, এখন তোমার লক্ষ্য লেখাপড়া। ভালোভাবে পড়াশোনা করে বড় হও। আর্দশ মানুষ হও। এই আমার আর্শীবাদ।"
ছোট্ট আর্যায়নের অসাধারণ বক্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোড়ন তৈরি করেছে। রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে আর্যায়নকে নিয়ে। বাবা-মাও ছেলের এই বক্তব্যের পরে গর্বিত।
