খুড়তুতো ভাইয়ের কোদালের কোপে মৃত্যু দাদার। ঘটনাটি ঘটেছে মুর্শিদাবাদের জলঙ্গি থানার ঘোষপাড়া পঞ্চায়েতের ফরাজিপাড়া এলাকায়। যা নিয়ে বুধবার বিকেলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল এলাকায়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতের নাম আব্দুস সালাম মণ্ডল (৫৭)। তবে ঘটনার পরেই অভিযুক্ত খুড়তুতো ভাই আনোয়ার মণ্ডল পলাতক। তাঁর খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ। তবে কেন এই খুনের ঘটনা তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে জমি নিয়ে দুই ভাইয়ের বচসার জেরেই এই খুনের ঘটনা বলে প্রাথমিক অনুমান পুলিশের।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, আব্দুস সালাম ও আনোয়ার সম্পর্কে খুড়তুতো দাদা-ভাই। পৈতৃক সম্পত্তি ভাগ হয়ে গেলেও কবরের একটি জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই তাঁদের মধ্যে বিবাদ চলছিল। জানা গিয়েছে, আনোয়ারের বাড়ির দিকেই রয়েছে তাঁর দাদু ওমেজ মণ্ডল এবং সালামের বাবা ওহাব মণ্ডলের কবর। যদিও ওই কবরের জমির জন্য আনোয়ারকে অন্যত্র জমি দেওয়া আছে বলে দাবি করেন মৃতের মেয়ে মাম্পি খাতুন। তিনি বলেন “ কবরের জমির জন্য কাকাকে অন্যত্র জমি দেওয়া আছে। তা সত্ত্বেও দাদু ও বড় বাবার কবরের জমিতেই ঘর করতে যাচ্ছিল আনোয়ার কাকা। বাধা দেওয়ায় বাবাকে খুন করেছে।”
অভিযোগ, আনোয়ার সম্প্রতি বাংলা আবাস যোজনার ঘর তৈরির টাকা পেয়েছে। সেই টাকায় কবরের জায়গায় পাকা ঘর নির্মাণের জন্য বুধবার মাটি কাটছিলেন তিনি। ওই সময় খুড়তুতো দাদা আব্দুস সালাম বাধা দিলে দু’জনের মধ্যে বচসা তৈরি হয়। অভিযোগ, উত্তেজনার মধ্যেই হাতের কাছে থাকা কোদাল দিয়ে সালামের মাথায় সজোরে আঘাত করেন আনোয়ার।
গুরুতর জখম অবস্থায় আব্দুস সালামকে প্রথমে সাদিখাঁরদিয়াড় গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাঁর অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। জানা গিয়েছে, হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই দৌলতাবাদের কাছে তাঁর মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় ক্ষোভে ফুঁসছে পরিবার। অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি উঠেছে।
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ টহল দিচ্ছে। ডোমকলের এসডিপিও শুভম বাজাজ জানান “কবরের জমির উপর ঘর নির্মাণকে কেন্দ্র করে বচসা থেকে খুনের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে এবং অভিযুক্তের খোঁজে তল্লাশি জারি রয়েছে।” স্থানীয় মানুষ অবশ্য ওই ঘটনায় ক্ষুব্ধ। প্রতিবেশী ঘোষপাড়া পঞ্চায়েতের প্রাক্তন প্রধান সুখচাঁদ আলি জানান “ বখাটে গোছের আনোয়ার সামাজিক অনুশাসন মানে না। মানলে এমনটা ঘটতো না। সমাজ পিতৃপুরুষের কবরের জমি দখল করে কাজকরা ভালো চোখে দেখে না। সেটা আগেও তাঁকে বলা হয়েছে। শুনলে এই দুর্ঘটনা ঘটতো না।”
