স্কুলের মধ্যে ক্লাস চলছে। এইটের ক্লাসে বাংলা পড়াচ্ছিলেন শিক্ষক। সেসময় আচমকাই ঢুকে ক্লাসের ভিতর ঢুকে পড়েন এলাকার বিজেপি বিধায়ক নির্মল ধাড়া। কেন এভাবে ক্লাসের ভিতর বিধায়ক ঢুকেছেন? সেই বিষয়ে উষ্মাপ্রকাশ করেছিলেন শিক্ষক। আর তাতেই কার্যত তেলেবেগুনে জ্বলে ওঠেন বিধায়ক। কার্যত গলা তুলে শিক্ষককে ধমক দেন তিনি। পড়ুয়াদের সামনেই বিধায়ক ও শিক্ষকের মধ্যে উত্তেজিত বাক্য বিনিময় হয়। কেন শ্রেণিকক্ষ পরিষ্কার নেই? সেই বিষয় নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছিলেন বিজেপি বিধায়ক। মঙ্গলবার ওই ঘটনার পরেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে বাঁকুড়ায় (Bankura)।
চলছিল চতুর্থ পিরিয়ড, ক্লাস এইটের বাংলা পড়াচ্ছেন শিক্ষক। সেই সময়েই আচমকা দরজা ঠেলে ঢুকে পড়লেন বিজেপি বিধায়ক। অনুমতি নেই, পূর্ববার্তা নেই— সরাসরি প্রশ্ন, “মেঝে নোংরা কেন?” তারপরই পড়ুয়াদের সামনেই শিক্ষককে আঙুল তুলে তিরস্কার। বাঁকুড়ার ইন্দাসে শিক্ষাঙ্গনে এই ঘটনাকে ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক ঝড়। ঘটনাটি কুশমুড়ি হাইস্কুল-এর। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, দোতলার হলঘরে নিয়মমাফিক ক্লাস চলছিল। সেই সময়েই ইন্দাসের বিজেপি বিধায়ক নির্মল ধাড়া হঠাৎই ক্লাসরুমে ঢুকে পড়েন। ক্লাস থামিয়ে শিক্ষকের কাছে জবাবদিহি চান।
শিক্ষক গোলক বিহারী বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, স্কুলে স্থায়ী সাফাইকর্মী নেই। পড়ুয়ারাই পালা করে ঘর পরিষ্কার রাখে, প্রয়োজনে শিক্ষকরাও হাত লাগান। চতুর্থ পিরিয়ডের পরই পরিষ্কার করার কথা ছিল। কিন্তু তার আগেই শুরু হয় বাগবিতণ্ডা। শিক্ষক যখন জানতে চান— “অনুমতি ছাড়া ক্লাসে প্রবেশ কেন?”— তখনই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পড়ুয়াদের সামনেই চলে তর্ক, উচ্চস্বরে বাক্যবিনিময়।
ঝাড়ু হাতে স্কুল ক্যাম্পাসে বিজেপি বিধায়ক।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বিধায়কের সুর ছিল আক্রমণাত্মক। একজন নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি কি এভাবে ক্লাসে ঢুকে শিক্ষকের কাছে জবাবদিহি চাইতে পারেন? সেই প্রশ্ন উঠেছে। ঘটনার পর বিধায়ক ঝাড়ু হাতে স্কুল চত্বর পরিষ্কার করতে দেখা যায়। পরে অনুমতি না নিয়ে ক্লাসে ঢোকার জন্য ভুল স্বীকারও করেন তিনি। তবে বিরোধীদের দাবি, “প্রথমে অপমান, পরে দুঃখপ্রকাশ— এতে কি মর্যাদা ফেরে?”
তৃণমূলের ইন্দাস ব্লক সভাপতি শেখ হামিদ কড়া প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “বিদ্যালয়কে রাজনৈতিক মঞ্চ বানানোর চেষ্টা চলছে। পড়ুয়াদের সামনে শিক্ষককে অপমান করা গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির পরিপন্থী।” বিজেপির পাল্টা দাবি, স্কুলের পরিকাঠামো ও পরিচ্ছন্নতা খতিয়ে দেখতেই বিধায়ক গিয়েছিলেন। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, নজরদারি আর ‘নিয়ন্ত্রণ’-এর সীমারেখা কোথায়?
