বাবুল হক, মালদহ: উৎসবের মরশুম। হোলির আনন্দে গা ভাসাতে শ্বশুরবাড়ি যাচ্ছিলেন লক্ষ্মণ রায়। দুষ্কৃতীদের খপ্পরে পড়ে সব গণ্ডগোল। মোবাইল কেড়ে নেওয়ার পর ওই যুবককে চলন্ত ট্রেন থেকে ঠেলে ফেলে দেওয়া হয়। মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন তিনি। মালদহের এই ঘটনায় ফের প্রশ্নের মুখে পড়েছে রেলের নিরাপত্তা।
[প্রেমে ব্যর্থ, ঘাটালে একই গাছের ডালে উদ্ধার যুগলের ঝুলন্ত দেহ]
লক্ষ্মণবাবুর বাড়ি মুর্শিদাবাদের ফরাক্কায়। তাঁর গন্তব্য ছিল বিহারের কাটিহার। শুক্রবার ভোররাতে তিনি ফরাক্কা স্টেশন থেকে কাটিহার যাওয়ার জন্য আপ হাটেবাজারে ট্রেনে চাপেন। লক্ষ্মণ উঠেছিলেন অসংরক্ষিত কামরায়। হোলি উপলক্ষ্যে শ্বশুরবাড়ি যাচ্ছিলেন ওই যুবক। ভোর সাড়ে চারটা নাগাদ, মালদা টাউন রেল স্টেশনে ট্রেন যখন ঢুকছিল তখনই তিনি বিপদে পড়েন। কয়েকজন দুষ্কৃতী আচমকা তাঁর উপর চড়াও হয়। লক্ষ্মণের হাতে ছিল প্রায় কুড়ি হাজার টাকা দামের মোবাইল সেট। দামি ফোনটি কেড়ে নিয়ে দুষ্কৃতীরা ক্ষান্ত হয়নি। ওই যুবককে চলন্ত ট্রেন থেকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। ট্রেনের গতি কিছুটা কম থাকায় প্রাণে বাঁচেন লক্ষ্মণ। ঘটনাটি ঘটে মালদা টাউন রেল স্টেশনের এক নম্বর প্লাটফর্মের কাছে। রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকা আহত ওই যাত্রীকে উদ্ধার করে রেল পুলিশ। তারাই যুবককে মালদহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভরতি করে। রেল পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। যদিও এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে কাউকে ধরা যায়নি। হাসপাতাল সূত্রে খবর, আহত যাত্রীর অবস্থা স্থিতিশীল। তাঁর মাথায় ও শরীরে আঘাত লেগেছে।
[ভেনিসের ধাঁচে এবার কলকাতায় ওয়াটার ট্যাক্সি, আরামদায়ক জলসফরের ব্যবস্থা]
শুক্রবারের এই ঘটনায় যাত্রী নিরাপত্তা নিয়ে আবারও প্রশ্নের মুখে পড়েছে রেলের ভূমিকা। যাত্রীদের একাংশের অভিযোগ রাতের ট্রেনে বিশেষত অসংরক্ষিত কামরায় যাতায়াত রীতিমতো বিভীষিকার মতো। প্রায়ই লুটপাটের ঘটনা ঘটে। অথচ নিরাপত্তারক্ষী দেখা যায় না। আর এই পরিস্থিতির সুযোগে অবাধে বেড়ে চলেছে দুষ্কৃতী দৌরাত্ম্য। গৌড়বঙ্গ এবং মালদা টাউনের মধ্যে মাঝেমধ্যে এধরনের ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। শুধু ছিনতাই নয়, আক্রান্ত যাত্রীকে ট্রেন থেকেও ফেলে দেওয়া হচ্ছে।
[আয় বাড়াতে ঘুম চোখেই স্টিয়ারিংয়ে হাত চালকদের, বাড়ছে বিপদ]
The post দামি মোবাইল ছিনতাইয়ে বাধা, চলন্ত ট্রেন থেকে ফেলা দেওয়া হল যাত্রীকে appeared first on Sangbad Pratidin.
