shono
Advertisement

সরকারের কর্মসূচি ধর্ম নিয়ে হতে পারে না, বিজেপিকে তোপ মমতার

সমাজে দাঙ্গার থেকে বড় শত্রু আর নেই, সংহতি দিবসে বার্তা মমতার The post সরকারের কর্মসূচি ধর্ম নিয়ে হতে পারে না, বিজেপিকে তোপ মমতার appeared first on Sangbad Pratidin.
Posted: 02:29 PM Dec 06, 2017Updated: 06:30 PM Sep 20, 2019

সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: বাবরি ধ্বংসের পঁচিশ বছর পূর্তি। ঐতিহাসিক ৬ ডিসেম্বর দিনটিকে বরাবার সংহতি দিবস হিসেবে পালন করে এসেছে তৃণমূল। পঁচিশ বছর পূর্তি উপলক্ষে মেয়ো রোডের মঞ্চ থেকে দাঙ্গা রোধের বার্তাই দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

Advertisement

[ অশ্লীল ছবি দেখিয়ে ছাত্রীদের আপত্তিকর জায়গায় হাত, গ্রেপ্তার শিক্ষক ]

এদিন বক্তব্য রাখতে গিয়ে অতীত ফিরে যান মমতা। জানান, “পঁচিশ বছর আগের সে দিনটি ভোলার নয়। কলকাতায় বিভিন্ন অঞ্চলে আগুন জ্বলছে। আমি ছুটে গিয়েছিলাম এ-প্রান্ত থেকে ও-প্রান্ত। তখনকার মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুকে জিজ্ঞেস করেছিলাম, কিছু করতে হবে কিনা? এটা রাজনীতি করার বিষয় নয়। ধর্ম নিয়ে আমরা কোনওদিন রাজনীতি করি না।”

অবৈধ দখলদারি রুখতে গিয়ে জমি মাফিয়াদের হাতে প্রহৃত তৃণমূল নেত্রী ]

তাঁর কথায় এদিন ফিরে এল মাদার টেরেজার প্রসঙ্গ। মমতা জানালেন, “কাকলী ঘোষ দস্তিদারকে সঙ্গে নিয়ে তখন এলাকার পর এলাকায় ঘুরতাম। একজনকে সে সময় রাস্তায় দেখেছিলাম। শিয়ালদহের লরেটোয় কিছু মানুষ উদ্বাস্তু হয়েছিলেন। সেখানে তাদের পাশে দাঁড়াতে দেখেছিলাম মাদার টেরিজাকে। মাদার দেখে বললেন, ‘তুমি এখানে?’ আমি বলেছিলাম, ‘আমি তো ঘুরেই বেড়াচ্ছি।’ সেদিন কোনও নেতৃবৃন্দকে রাস্তায় দেখিনি। সারা ভারত তোলপাড় হয়ে গিয়েছিল। হৃদয় ভেঙে গিয়েছিল। শোকের উত্তাল প্রবাহ চলছিল। আমাদের অঙ্গীকার ছিল, দাঙ্গা রুখব। দাঙ্গার থেকে বড় শত্রু এ সমাজে আর কিছু হতে পারে না।”

এবার কার্টুন দেখানোর নাম করে শিশুকন্যাকে যৌন নির্যাতন ]

এদিন  দেশের বৈচিত্রের প্রসঙ্গ উঠে এল মমতার কথায়। জানালেন, “ভারতবর্ষ বড় দেশ, একশো কোটির বেশি মানুষ বাস করে। এত লোকসংখ্যা, এত ধর্ম, এত জাতি, এত ভাষা, এত বর্ণের সমাহার। এ জিনিস আর কোথাও দেখা যায় না। ভারতবাসী হিসেবে আমি গর্ববোধ করি। হয়তো অন্য একজনের মানুষের ভাষাটাও বোঝা যায় না। কিন্তু তাতে আমাদের কোনও অসুবিধা হয় না। ভাষা আলাদা হলেও মিল আছে। মিলেমিশে কাজ করতে কোথাও তো অসুবিধা হয় না। পোশাকের রংটাই যা আলাদা, তাতে ফারাকটা কী হল?” এরপরই তিনি তোপ দাগেন কেন্দ্রের বিরুদ্ধে। এটাই যদি ভারতের ঐতিহ্য হয়, তাঁর প্রশ্ন, “তাহলে আজ এই প্রতিযোগিতা কেন চলবে? ভাগাভাগি শুরু হয়েছিল পঁচিশ বছর আগে। সেই ট্র্যাডিশন আজও চলছে। আজ একটা রাজনৈতিক দলের জন্য গোটা দেশটা অসহিষ্ণুতার গ্রাসে পড়েছে। সরকারের কর্মসূচি ধর্ম নিয়ে হতে পারে না। মানুষকে নিয়ে হয়।” মমতার প্রশ্ন, “গণতন্ত্রের সংজ্ঞা কী? অফ দ্য পিপল, বাই দ্য পিপল, ফর দ্য পিপল। সংবিধানে কখনও কি বিশেষ ধর্মের কথা লেখা আছে? আমিও হিন্দু ধর্মের লোক। কিন্তু তা বলে আমি মুসলিম ধর্ম বা খ্রিস্টান ধর্মকে ঘৃণা করতে পারি না। ভারতবর্ষের সংবিধান কী বলেছে? বলছে, আমরা ধর্মনিরপেক্ষ। কেউ কারও ধর্মকে আঘাত করতে পারে না। কারও খাদ্যাভাসে বাধা দিতে পারে না। তাহলে কেন ভাগাভাগি? কেন অসহিষ্ণুতা?”

স্কুল বন্ধ হবে না, জি ডি বিড়লা কাণ্ডে রাজনীতিতে আপত্তি মমতার ]

দেশে যে অঘোষিত জরুরি অবস্থা চলছে সে অভিযোগ মমতা আগেও করেছেন। এদিনও সে প্রসঙ্গ তুলে এনে বলেন, “সাংবাদিকদের পর্যন্ত হত্যা করা হচ্ছে। সরকারের কাজ, মানুষের পাশে থাকা। কৃষক-শ্রমিকের পাশে থাকা। সর্বধর্মসমন্বয়ের পাশে থাকা। আজ দিকে দিকে কৃষকরা আত্মহত্যা করছে। তাকিয়ে দেখার কেউ নেই। শুধু নির্বাচন এলে বড়বড় কথা। না শিল্প আছে, না কৃষি। শিল্পপতিরা দেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছে। পাসপোর্ট-ভিসা চেক করলেই তো বোঝা যাবে, আমি সত্যি বলছি কিনা। রেকর্ড মিলিয়ে দেখার দাবি জানাচ্ছি। নির্বাচনের আগে যাঁরা বলেছিলেন, বিদেশ থেকে কালো টাকা উদ্ধার করে এনে সাধারণের পকেটে ঢোকাবে, কোথায় কী? মিডিয়াকে পর্যন্ত সন্ত্রস্ত করে রেখেছে বিজেপি। বিজেপির বিরুদ্ধে মুখ খুললেই শাস্তির মুখে পড়তে হচ্ছে। আঞ্চলিক দলগুলোকে হেনস্তা করা হচ্ছে। ইন্দিরা গান্ধীর আমলে জরুরি ঘোষণা হয়েছিল। ভারত উত্তাল হয়েছিল। ইন্দিরা হেরে গিয়েছিল। কিন্তু আজ ঘোষণা না করেও জরুরি অবস্থা চলছে।”

[  ছাত্রীদের সঙ্গে অভব্য আচরণ করলেই জানিয়ে দেবে নয়া যন্ত্র ]

নিজের বিরুদ্ধে মুসলিম তোষণের অভিযোগও এদিন খারিজ করেন মমতা। বলেন, “আমি মুসলিম তোষণ করছি বলে থাকে অনেকে। আমার রাজ্যে মুসলিম ভাইবোনরা থাকেন। তাঁদের রক্ষা করা আমার কাজ। কে অভিযোগ করছে, তাতে আমার কিছু আসে যায় না। তফশিলি, আদিবাসী সবার পাশে গিয়েই লক্ষবার দাঁড়াব।”

[  ‘দু-একজনের জন্য গোটা শিক্ষক সমাজের ভাবমূর্তিতে আঘাত করা ঠিক নয়’ ]

ধর্ম নিয়ে রাজনীতিতে ঘোর অনাস্থা প্রকাশ করেন মমতা। জানান, “আজ বল্লভভাই প্যাটেলকে নিয়ে রাজনীতি হচ্ছে। কিন্তু আসলে ইতিহাসকে ঘুরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।” এদিন মমতার মুখে শোনা গেল সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, মদন মিত্রর নাম। অভিষেকের প্রসঙ্গ তুলে এনে বলেন, “আমাদের কোনও নেতা কথা বললেই তাকে জেলে পুরে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। ভাবছে, তাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বেকায়দায় ফেলা যাবে। কিন্তু আমি আজ সাফ জানাচ্ছি, যতদিন এই মুখে কথা বলতে পারব, ততদিন আমার কণ্ঠরোধ করা যাবে না।” এদিনের মঞ্চ থেকে ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিরসনের ডাক দেন মমতা। দাবি জানান নির্বাচনী সংস্কারেরও।

The post সরকারের কর্মসূচি ধর্ম নিয়ে হতে পারে না, বিজেপিকে তোপ মমতার appeared first on Sangbad Pratidin.

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

Advertisement
toolbarHome ই পেপার toolbarup মহানগর toolbarvideo শোনো toolbarshorts রোববার