সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেস্ক: শেষপর্যন্ত কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পুরস্কার পেলেন প্রবীণ বিধায়ক মানস ভুঁইয়া। বিধানসভায় তাঁর পাবলিক ওয়ার্কস কমিটির চেয়ারম্যান হওয়া নিয়ে বিতর্কের জল বহুদূর গড়িয়েছিল। এমনকি কোন দলে রয়েছেন, স্পিকারের সেই প্রশ্নেরও জবাব দিতে হয়েছিল পোড়খাওয়া বিধায়ককে। কিন্তু রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর উপর আস্থা রেখেছিলেন। তিনি কথা দিয়েছিলেন, মানস ভুঁইয়াকে ঠিক সময়মতো উচ্চপদে বসাবেন। সেই কথা রাখলেন মুখ্যমন্ত্রী। শেষপর্যন্ত দলের তরফ থেকে রাজ্যসভার সাংসদ পদে প্রার্থী হিসাবে মানসবাবুর নাম প্রস্তাব করা হল। মানস ভুঁইয়াকে রাজ্যসভার প্রার্থী করে প্রদেশ কংগ্রেস এবং সিপিএমকে একপ্রকার বার্তাই দিলেন মমতা, মত রাজনৈতিক মহলের।
[গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি তাপস পাল]
একইসঙ্গে, শান্তা ছেত্রীকেও প্রার্থী করে পাহাড়কে বার্তা দিলেন মমতা। সুবাস ঘিসিংয়ের আমলে কার্শিয়াংয়ে জিএনএলএফের বিধায়ক ছিলেন শান্তা। তারপর ঘিসিংকে পাহাড় থেকে খেদিয়ে দিয়ে পাহাড়ে রাজত্ব শুরু হয় ঘিসিংয়ের একদা ঘনিষ্ঠ বিমল গুরুংয়ের। তারপর তিস্তা দিয়ে বয়ে গিয়েছে বহু জল। গত বিধানসভা নির্বাচনে সেই কার্শিয়াংয়েই তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হয়েছিলেন শান্তা। ভোটে হেরে গেলেও শান্তার ভাবমূর্তি পাহাড়ে খুবই স্বচ্ছ। এবং শান্তা রাজ্যসভার সাংসদ হলে পাহাড়ে বিজেপি-গোর্খা জনমুক্তি মোর্চাকে বার্তা দেওয়া যাবে। সেই চালই চেলেছেন মমতা। পাহাড়ের ভূমিপুত্রী শান্তার দিল্লি যাত্রার পথে বাধা তাই বিরোধীরা। সব ঠিক থাকলে পরের অধিবেশনেই সাংসদ হয়ে সংসদের উচ্চকক্ষে পা রাখতে চলেছেন শান্তা ছেত্রী। তাতে পাহাড়কে আরও কাছে টানতে পারবেন মমতা, মত বিশেষজ্ঞদের। প্রার্থী হতে পেরে খুবই উচ্ছ্বসিত মানস এবং শান্তা। দলের নেত্রী তাঁদের উপর আস্থা রেখেছেন, সেই আস্থার মান রাখতে পেরে খুশি দুজনেই।
[ছাড়া পেলেন সুদীপ, বিকেলেই কলকাতায় ফিরতে পারেন সাংসদ]
অন্যদিকে, ফের তৃণমূলের তরফ থেকে রাজ্যসভার প্রার্থী হলেন সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন, সুখেন্দুশেখর রায় এবং দোলা সেন। বর্তমানে এরা রাজ্যসভায় তৃণমূলের সাংসদ। কিন্তু রবিবার মুখ্যমন্ত্রী টুইট করে মানস, শান্তার পাশাপাশি এই তিনজনকেও রাজ্যসভার প্রার্থী করার কথা জানিয়েছেন।
The post রাজ্যসভায় তৃণমূলের প্রার্থী হচ্ছেন মানস-শান্তা, রয়েছেন ডেরেকও appeared first on Sangbad Pratidin.
