লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের পর এবার বিধবা ভাতা নিয়েও দুর্নীতির অভিযোগে সরগরম মুর্শিদাবাদের লালগোলায়। বছরের পর বছর ধরে এক পুরুষের অ্যাকাউন্টে ঢুকছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে নির্ধারিত প্রতি মাসে বিধবা ভাতার ১৫০০ টাকা! প্রায় ৩৯ মাস ধরে এটা ঘটছে। বিষয়টা যখন থেকে নজরে এসেছে, তখন থেকেই এই সমস্যা সমাধানের জন্য প্রশাসনের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন বিধবা মহিলার পরিবারের সদস্যরা, কিন্তু এতদিনে লাভ কিছুই হয়নি। এবার বদলে বাংলায় তাঁদের আশা, নতুন সরকার এই বিষয়টি খতিয়ে দেখে সমাধান করবে। কিন্তু আর কতদিন? ধৈর্য নিয়ে অপেক্ষাই এখন একমাত্র রাস্তা।
লালগোলা ব্লকের পণ্ডিতপুর বাগানপাড়া এলাকার বাসিন্দা রেহানা বিবি। বছর সাতে আগে তাঁর স্বামী প্রয়াত হন। তারপর এলাকার এক যুবক রেহানা বিবির জন্য বিধবা ভাতার আবেদন করেন। দরখাস্ত লিখে দিয়েছিলেন ওই যুবকই। রেহানা বিবির টিপসই ছিল তাতে। কিন্তু দীর্ঘদিন অপেক্ষার পরও দেখা যায়, তিনি বিধবা ভাতা পাচ্ছেন না। ওই যুবকের কথায়, ‘‘আমিই রেহানা বিবির হয়ে আবেদন করে দিয়েছিলাম। কিন্তু উনি বিধবা ভাতার টাকা না পাওয়ায় আমরা ভেবেছিলাম বুঝি আবেদনে কোনও গন্ডগোল আছে। তারপর বিডিও অফিসে গিয়ে জানতে পারি, রেহানা বিবির জন্য বিধবা ভাতার বরাদ্দ টাকা পাচ্ছেন জাহাঙ্গির আলম নামে এক যুবক। তাঁর সঙ্গে রেহানার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বরের মিল আছে। তাই হয়ত এই সমস্যা হল।''
২০২৪ সালে বিষয়টি নজরে আসে। তারপর থেকে দুয়ারে দুয়ারে ঘুরলেও সমাধান হয়নি। রেহানা বিবির মেয়ের বক্তব্য, ‘‘মায়ের টাকা যাতে মা নিজেই পায়, তার জন্য আমরা নানা জায়গায় ঘুরেছি। কিন্তু কেউ কিছু করতে পারেনি। আব্বু মারা যাওয়ার পর মায়ের কাছে বিধবা ভাতাই ছিল সম্বল। কিন্তু তা না পেয়ে খুব কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। তাঁর মানসিক ভারসাম্যও ঠিক নেই এখন। কখন কী বলছেন, ঠিক নেই। আমরা চাই, নতুন সরকার দ্রুত এর সমাধান করুক।''
প্রতি মাসে সরকারের তরফে যখন বিধবা ভাতা চালু আছে এবং তার যোগ্য দাবিদার রেহানা বিবি, যখন অনটনের মধ্যে তাঁর দিন কাটছে, তখন অন্য কারও অ্যাকাউন্টে মাসের পর মাস ধরে সেই টাকা ঢোকার এই ঘটনায় চরম ক্ষোভ ছড়িয়েছে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও। কীভাবে এত বড় ভুল বা জালিয়াতি বছরের পর বছর প্রশাসনিক নজর এড়িয়ে রয়ে গেল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
