মৃণ্ময় লাহিড়ি: সম্পন্ন গৃহস্থ। ছেলেরা প্রতিষ্ঠিত। ভাল চাকরি করে। মেয়ের বিয়ে হয়েছে। বয়স বেড়েছে দম্পতির। আপাতভাবে ঝামেলার কোনও ছাপই নেই। অথচ গৃহবিবাদ বোধহয় ভিতরে ভিতরে ফোঁপরা করে ফেলেছিল দাম্পত্য। আর তাই নিজের স্ত্রীকে কুপিয়ে খুন করে ফেরার ৬৮ বছরের এক বৃদ্ধ। কোচবিহারের ডাবাগুড়ির এ ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
[ মমতাকে ক্ষমতালোভী, ভণ্ড বলে কটাক্ষ বিজেপির ]
নিহত গৃহবধূর নাম সবিতা রায়। ডাবাগুড়ির গয়াবাড়ির দাশপাড়া এলাকার বাসিন্দা তিনি। স্বামী প্রমোদচন্দ্র রায়। এককালে সবজির ব্যবসা ছিল তার। ইদানিং আর তেমন কিছু করত না। বাড়িতেই থাক। ঘরে গরু ছিল। দেখাশোনা করে সময় কাটত তার। দম্পতির ছেলে মেয়েরা বেশ প্রতিষ্ঠিত। একজন থাকেন বেঙ্গালুরুতে। ছোট ছেলে চাকরি করেন রেলে। বাড়ি থেকেই তাঁর অফিসে যাতায়াত। এদিন সকালে বেরনোর সময় তিনি মাকে বারান্দায় বসে সবজি কাটতে দেখেছিলেন। এরপর বাড়িতে ওই দম্পতি ছাড়া আর কেউই ছিল না। সে সময়ই ঘটে এই ঘটনা। প্রতিদিনই বাড়িতে গোয়ালা আসে। এদিন দুধ নিতে এসে ডাকাডাকি করেও কারও সাড়া পাননি তিনি। পাশের বাড়িতে বললে প্রতিবেশী একজন এসে দেখেন ঘরের একটি দরজা ভেজানো। অপরটি বন্ধ। দরজাতেই রক্ত দেখতে পান। এরপর খবর দেওয়া হয় দম্পতির বড় মেয়ে কাকলি দেবনাথকে। কাছেই তাঁর শ্বশুরবাড়ি। কাকলী এসেই ঘরের ভিতর মায়ের মুণ্ডহীন দেহ দেখতে পান। ঘটনার পর থেকেই ফেরার ওই বৃদ্ধ।
[ লালঝান্ডা ফেলে এখন হাতে পুঁথি মজিদ মাস্টারের ]
ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন কোতয়ালি থানার পুলিশ। এসপি অনুপ জয়সওয়াল জানাচ্ছেন, ফেরার বৃদ্ধের খোঁজে তল্লাশি চলছে। প্রাথমিকভাবে পুলিশের অনুমান, পারিবারিক বিবাদের জেরেই স্ত্রীকে খুন করেছে ওই বৃ্দ্ধ। মৃতদেহে একাধিক কোপের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে। পেঁচিয়ে গলা কাটা হয়েছে। ধড় থেকে আলাদা হয়েছে মুণ্ড। দম্পতির সন্তানরা জানাচ্ছেন, মাঝেমধ্যেই মা ও বাবার মধ্যে ঝগড়া হত। স্বাভাবিক যেরকম হয়। তা নিয়ে মা-বাবাকে শাসনও করতেন ছেলে মেয়েরা। কিন্তু তা যে এ পরিস্থিতিতে গড়াবে তা কেউ কল্পনাও করতে পারেননি! ঠিক কী বিবাদের জেরে এরকম ঘটনা ঘটালেন বাবা, তা নিয়ে এখনও ধন্দে সন্তানসন্ততিরা।
The post পারিবারিক বিবাদের জের, স্ত্রীর মুণ্ডচ্ছেদ স্বামীর appeared first on Sangbad Pratidin.
