রবিবার রাত ১০ টা নাগাদ ফোন এসেছিল। পরিবারের লোকজনদের সঙ্গে কথাও হয়েছিল সন্দীপ মাইতির। পরদিন সোমবার ২৬ জানুয়ারি দেশের সাধারণতন্ত্র দিবসের দিনও কাজ ছিল। তাই কলকাতার উপকণ্ঠে থাকা আনন্দপুরেই থেকে যেতে হয়েছিল সন্দীপকে। বাড়ি যাওয়া সম্ভব নয় বলে অন্যান্যদের দিনের মতো ফোনেই পরিবারের লোকেদের সঙ্গে কথা বলা। ওটাই এখন অবধি শেষ কথোপকথন। আনন্দপুরের মোমো কারখানায় ভয়াবহ আগুন (Anandapur Fire) লাগে রবিবার মধ্যরাতেই। তারপর থেকেই কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না সন্দীপ মাইতির।
নন্দকুমারের বরগোদার বাসিন্দা সন্দীপ মাইতি। তিনি লেবার ঠিকাদার হিসেবে ওই কারখানার কর্মরত। ফলে সেখানেই থাকতে হয় তাঁকে। বিধ্বংসী আগুন লাগে সেখানে। টানা ১১ ঘণ্টা জ্বলার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। সোমবার রাতেও বিভিন্ন জায়গায় পকেট ফায়ারিং দেখা গিয়েছে। এখন অকুস্থলে কাজ করছেন দমকল কর্মীরা। এদিকে আগুন লাগার ঘটনা জানার পরই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিল সন্দীপ মাইতির পরিবার। দ্রুত মোবাইলে ফোন করা হয়। কিন্তু কোনওরকম যোগাযোগ করাই সম্ভব হয়নি। তখন থেকেই মাথায় আকাশ ভেঙে পড়েছে দুশ্চিন্তায়।
খবর শোনার পরেই নন্দকুমার থেকে আনন্দপুর পৌঁছে যান সন্দীপের স্ত্রী। আগুন লাগার অনেক দূরেই তাঁকে আটকে দেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন জায়গায় ঘুরেও স্বামীর কোনও খোঁজ এখনও পাননি তিনই। বাড়িতে রয়েছেন সন্দীপের দিদি ও অন্যান্যরা। তাঁদের চোখেমুখে প্রবল দুশ্চিন্তা। বোন শ্রাবণী মাইতি জানান, রবিবার রাত ১০টায় শেষ কথা হয়েছিল দাদার সঙ্গে। তারপর থেকে কোনও খোঁজ নেই। রাজ্য সরকারের কাছে তিনি আবেদন জানিয়েছেন, যাতে দ্রুত তার দাদাকে খুঁজে পাওয়া যায়। প্রতিবেশী থেকে আত্মীয়রাও ফোন করে চলেছেন সন্দীপকে। কিন্তু কোনও যোগাযোগই সম্ভব হয়নি।
আনন্দপুরের ‘মৃত্যুপুরী’ মোমো কারখানার সামনে এখন কান্না, হাহাকার। স্বজনদের খোঁজে অস্থির চিত্তে অপেক্ষায় পরিবার-পরিজনরা। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত আটজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। অন্যদিকে নিখোঁজের সংখ্যা অনেক! আনন্দপুরের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পূর্ব মেদিনীপুর জেলার প্রায় ১৩ জন নিখোঁজ বলে এখনো পর্যন্ত চিহ্নিত করা গিয়েছে। গতকাল, সোমবার সাধারণতন্ত্র দিবসের সকালে মর্মান্তিক এই ঘটনার কথা জানতে পারেন পরিবার-পরিজনরা। তারপর থেকেই বেড়েছে উদ্বেগ। অনেকেই দক্ষিণ কলকাতার আনন্দপুরে রয়েছেন। ‘জতুগৃহে’র সামনে দাঁড়িয়ে প্রিয়জনদের একটা খবরের জন্য অপেক্ষা করছেন তাঁরা।
