চঞ্চল প্রধান, হলদিয়া: শ্যালিকার ছেলের মুখে একবার বাবা ডাক শুনতে চেয়ে বিফল হওয়ায় রাগে তার মুখে কার্বলিক অ্যাসিড ঢেলে দিল মেসোমশাই। এমনই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে নন্দীগ্রামের হরিপুরে। অর্ধদগ্ধ হয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে ওই দু’বছরের দুধের শিশু। অপকর্মের কথা স্বীকার করেছে ধৃত রবিশংকর মাইতি। হলদিয়া মহকুমা আদালতের নির্দেশে অভিযুক্তের চোদ্দ দিনের জেল হেফাজত হয়েছে৷
শুধু একবার ‘বাবা’ ডাক শোনার আকুতি৷ দু’বছরের ছোট্ট শিশুকে তার জন্য জোর করেছিল মেসোমশাই। কিন্তু কিছু না বুঝতে পেরে জোরে কেঁদে উঠেছিল ওই শিশুটি। আর তথনই মাথাগরম হয়ে যায় ‘নির্দয়’ মেশোমশাইয়ের। হাতের কাছে ছিল কার্বলিক অ্যাসিডের বোতল। সেটি নিয়ে সে শিশুটির মুখে ঢেলে দেওয়ার চেষ্টা করে সে। তা গড়িয়ে পড়ে ওই দুধের শিশুর গায়ে। পুড়ে যায় তার মুখ, হাত, বুক। প্রতিবেশীরা এসে তাকে দ্রুত প্রথমে নন্দীগ্রাম সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করে। অবস্থার অবনতি হলে তমলুক সদর হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।
[সৌমেন চক্রান্তের শিকার ও নির্দোষ, কারমেল কাণ্ডে অভিযুক্তর পাশে পরিবার]
ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার বিকেলে। শিশুটির মা এবং তার দিদি, অর্থাৎ রবিশংকরের স্ত্রী বিকেলে মাঠে গিয়েছিলেন। সেই সময়ই অভিযুক্ত তার শ্যালিকার কোলের শিশুর সঙ্গে এই অমানবিক আচরণ করে। যদিও, প্রথমে সামাজিক মর্যাদার কথা ভেবে দুই পরিবারই বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু স্থানীয় গ্রামবাসীদের অনুরোধে হরিপুর গ্রামপঞ্চায়েত প্রতিনিধি বনবিহারি মণ্ডল শুক্রবার রাতে নিজেই নন্দীগ্রাম থানায় অভিযোগ দায়ের করতে বাধ্য হন৷ অভিযুক্ত রবিশংকর মাইতিকে শুক্রবার রাতে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। শনিবার আদালতের নির্দেশে তার চোদ্দ দিনের জেল হেফাজত হয়েছে৷ স্থানীয়দের একাংশের দাবি, শ্যালিকার সঙ্গে জামাইবাবুর বিবাহ বর্হিভূত সম্পর্কের জেরে এমন ঘটনা ঘটেছে। সে কারণেই রবিশংকর শ্যালিকার সন্তানের মুখ থেকে বাবা ডাক শুনতে চেয়েছিল। এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটার পরও কেন শ্যালিকা ও তার দিদি বিষয়টি গোপন কেন করতে চেয়েছিলেন? তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন প্রতিবেশীরা। হরিপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান মেঘনাদ পাল জানান, ‘এই মর্মান্তিক আচরণের কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে মূল অভিযুক্ত।’
[হার্নিয়ার অপারেশনের পরও ৩৩০ বার ওঠবস, কাঠগড়ায় মাদ্রাসার শিক্ষক]
The post ‘বাবা’ ডাক না শোনায় দু’বছরের শিশুর গায়ে অ্যাসিড ঢালল মেসো appeared first on Sangbad Pratidin.
