shono
Advertisement
Migrant Worker Death

বাংলা বলায় নয়, মদের আসরে খুন পুরুলিয়ার পরিযায়ী! দায় ঝেড়ে এফআইআরে নয়া দাবি পুণে পুলিশের

আজ পুরুলিয়ার বরাবাজারে নিহত শ্রমিকের বাড়িতে যাবেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
Published By: Sucheta SenguptaPosted: 11:27 AM Feb 13, 2026Updated: 03:23 PM Feb 13, 2026

ভিনরাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যু (Migrant Worker Death) ঘিরে এই মুহূর্তে যথেষ্ট উত্তেজনাকর পরিবেশ পুরুলিয়ায় (Purulia)। বিজেপি শাসিত মহারাষ্ট্রের পুণে থেকে পুরুলিয়ার বরাবাজারের বাসিন্দা সুখেন মাহাতোর দেহ উদ্ধারের ঘটনায় একাধিক তথ্য উঠে আসছে। এই ঘটনায় আমিন সওকত শেখ নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, বাংলা ভাষায় কথা বলায় খুন হতে হয়েছে সুখেনকে। নেপথ্যে কারা? তদন্তে নেমে পুণে পুলিশ অবশ্য অন্য দাবি করল।

Advertisement

এফআইআর দায়ের করে পুণের পুলিশের দাবি, বাংলায় কথা বলার জন্য নয়, মত্ত অবস্থায় বচসা থেকে খুন হয়েছেন সুখেন। অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এফআইআরের ওই বয়ানের অবশ্য মৃত সুখেনের ভাই তুলসীরামের সম্মতিতে ঠিক করা হয়েছে। তা জানিয়েছেন তুলসীরাম নিজেই। শুক্রবার দুপুরে মৃত সুখেনের পরিবারের পাশে দাঁড়াতে বরাবাজার যাচ্ছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)।

এফআইআর দায়ের করে পুণের পুলিশের দাবি, বাংলায় কথা বলার জন্য নয়, মত্ত অবস্থায় বচসা থেকে খুন হয়েছেন সুখেন। অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। এফআইআরের ওই বয়ানের অবশ্য মৃত সুখেনের ভাই তুলসীরামের সম্মতিতে ঠিক করা হয়েছে।

মঙ্গলবার মহারাষ্ট্রের পুণে শহর থেকে খানিকটা দূরে, শিকরাপুর থানার একটি হোটেলের পিছন থেকে উদ্ধার হয় সুখেন মাহাতোর রক্তাক্ত দেহ। তা নিয়ে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়। তৃণমূল দাবি করে, বাংলায় কথা বলার কারণেই সহকর্মীদের হাতে খুন হতে হয়েছে পুরুলিয়ার ভূমিপুত্রকে। এরপর দেহ উদ্ধার করতে পুণেতে যান সুখেনের ভাই তুলসীরাম। তাঁর সম্মতিক্রমে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে বলে দাবি। শিকরাপুর থানায় মারাঠি ভাষায় এফআইআরের বয়ান লেখা হলেও তা হিন্দিতে তর্জমা করে শোনানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন তুলসীরাম। তাঁর সম্মতি নিয়ে এফআইআর হয়েছে।

তুলসীরামের বয়ান অনুযায়ী, "৯ তারিখ দুপুর ৩ টে নাগাদ সুখেন, আর এক ভাই, দেবাশিস মাহাতো আর আমি ঘরেই ছিলাম। সুখেন এরপর কাজে যাচ্ছি বলে বের হয়ে যায়। সন্ধ্যা ৭ টা নাগাদ আমিও কাজে যাই। আমরা একই জায়গায় কাজ করি। কিন্তু কাজে গিয়ে আমি সুখেনকে দেখতে পাইনি। আমি ওকে ফোন করি। ওর ফোন বেজে যায়। আমি রাত ১২ টাতেও ওকে ফোন করি। কিন্তু ও ফোন ধরেনি। ১০ তারিখ সকাল ৭ টায় শিফট শেষ হওয়ার পর, আমি ভাড়া ঘরে ফিরি। কিন্তু সুখেন সেখানে ছিল না। দেবাশিসও জানায়, সুখেনকেও দেখেনি। এরপর আমরা ওকে খুঁজতে শুরু করি। দুপুরে আমাদের সুপারভাইজার সন্দীপ জানায়, “আপলে ঘর” হোটেলের পিছনে সুখেনের দেহ পড়ে আছে। আমি গিয়ে দেহ শনাক্ত করি। কী কারণে, কে বা কারা ওকে, কী দিয়ে খুন করল, তা আমাদের জানা ছিল না। তাই আমি অজ্ঞাতপরিচয় খুনির বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করছি।''

পুণে গ্রামীণ পুলিশে সুপার সন্দীপ গিল বলছেন, ''সুখেন বাঙালি। বাংলায় কথা বলছিলেন, তাই তাঁকে পিটিয়ে খুন করে দেওয়া হয়েছে, এমন কোনও তথ্য প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া যায়নি। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, কারখানায় কাজেই যাননি সুখেন। তিনি কোথাও বসে মদ্যপান করেন। এরপর সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, সুখেন টলতে টলতে একটি জায়গায় যান। সেখানে তখন তিনজন বেঞ্চে বসে। তাঁদের মধ্যে দু'জন অল্প বয়স্ক। তাঁরা মোবাইলে কিছু দেখছিল। সুখেন ঝুঁকে পরে তা দেখতে যান। সুখেনের এই আচরণে এক তরুণ বিস্ময় প্রকাশ করে। সুখেন এরপর তাঁদের কিছু বলেন। এতেই এক তরুণ ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। সে সুখেনকে ধাক্কা দিতে শুরু করে। এরপর দুজনেই সিসিটিভি ক্যামেরার ফ্রেমের বাইরে চলে যায়।'' পুলিশ এই দুই তরুণকে খুঁজছে। পুলিশের ধারণা, মত্ত অবস্থায় বচসার জেরেই সুখেন খুন হয়েছেন।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement