ডাক এসেছিল এসআইআর শুনানিতে। আর সেই খবর সৌদি আরবে বসেই পান মুর্শিদাবাদ জেলার কান্দির এক পরিযায়ী শ্রমিক। এরপর থেকেই আতঙ্কে ছিলেন। যদিও আজ মঙ্গলবার সমস্ত নথি নিয়ে কান্দি ব্লকের এসআইআর হেয়ারিং ক্যাম্পে হাজিরও হয়েছিলেন স্ত্রী। লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থাতেই ফোনে আসে স্বামীর মৃত্যুসংবাদ! আর তা শোনার কয়েক মিনিটের মধ্যেই বদলে যায় গোটা পরিস্থিতি! কিছুতেই বিশ্বাস করে উঠতে পারছিলেন না। পরিবারের অভিযোগ, 'এসআইআর আতঙ্কে'ই মৃত্যু হয়েছে ওই পরিযায়ী শ্রমিকের।
মৃত শ্রমিকের নাম ইব্রাহিম শেখ। বাড়ি কান্দি থানার হিজল নতুন পাড়া। মঙ্গলবার এসআইআরের হেয়ারিংয়ের জন্য ডাক এসেছিল কান্দি থানার হিজল নতুনপাড়ার বাসিন্দা ইব্রাহুম শেখের। ইব্রাহিম কর্মসূত্রে সৌদি আরবে থাকায় তাঁর স্ত্রী রেকশোনা বিবি প্রয়োজনীয় নথি নিয়ে কান্দি ব্লকের এসআইআর হেয়ারিং ক্যাম্পে হাজির হন। সেই সময়েই রেকশোনা বিবির কাছে সৌদি আরব থেকে ফোনে খবর আসে, কর্মস্থলে তাঁর স্বামী ইব্রাহিম শেখ গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।
আর তা শোনার পরেই শুনানি কেন্দ্রে কান্নায় ভেঙে পড়েন রেকশোনা বিবি। মৃত ইব্রাহিমের স্ত্রী রেকশোনা বিবি জানান, বাড়িতে হেয়ারিং নোটিস আসার খবর শোনার পর থেকেই আতঙ্কে ভুগছিল ইব্রাহিম। ২০০২ সালে ভোটার তালিকার সঙ্গে ইব্রাহিমের বাবার নাম বর্তমান ভোটার তালিকায় মিস ম্যাচ হওয়ায় তাকে হেয়ারিংয়ে ডাকা হয়েছিল। এই নোটিস পেয়ে আতঙ্কে সে আত্মহত্যা করেছে।
ঘটনার খবর পেয়েই পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন কান্দির বিধায়ক অপূর্ব সরকার। তিনি বলেন, ''বিজেপির কথায় নির্বাচন কমিশন সাধারণ মানুষকে হিয়ারিংয়ের নামে যেভাবে আতঙ্কিত করেছে তা কল্পনার বাইরে। হিয়ারিংয়ের আতঙ্কে মানুষকে আত্মহত্যার পথ বেছে নিত হচ্ছে। ইব্রাহিম আত্মহত্যা করল এই আতঙ্কে।''
বিধায়কের কথায়, ''স্বামীর মৃত্যুর পর দুই নাবালক সন্তানকে বিপদে পড়ে গেলেন রেকশোনা বিবি। ইব্রাহিম ছিল এই পরিবারের একমাত্র রোজগেরে। এর দায় কে নেবে? এর দায় নিতে হবে বিজেপিকে।'' এর দায় বিজেপিকে নিতে হবে বলেও হুঁশিয়ারি কান্দির বিধায়কের। অন্যদিকে মৃত ইব্রাহিমের মৃতদেহ যাতে সৌদি আরব থেকে কান্দিতে ফিরিয়ে নিয়ে আসা যায়, সেই বিষয়টি প্রশাসনের তরফে খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।
