চায়ের দোকান থেকে পরিকল্পনা করে হামলা! ফিল্মি কায়দায় অভিযুক্তকে পুলিশের থেকে ছিনিয়ে পালল দুষ্কৃতীরা। গরম জল, সসপেন দিয়ে মারধর পুলিশকে। ঘটনায় জখম দু'জন পুলিশকর্মী। তাঁদের মধ্যে একজন এএসআই। অন্যজন কনস্টেবল। শুক্রবার রাতে ঘটনাটি ঘটেছে মুর্শিদাবাদের ডোমকলে। এই ঘটনার পরই এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি চালায় পুলিশ। আটক করা হয়েছে দশ জনকে। তাদের মধ্যে তিনজন মহিলা। ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য এলাকায়।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আগ্নেয়াস্ত্র মামলায় অভিযুক্ত সিপিআইএম সমর্থক আজমত আলি শেখের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট ছিল। গোপনীয়তা বজায় রেখে তাকে ধরতে যায় পুলিশ। ডোমকলের কুচিয়ামোড়া পশ্চিমপাড়া এলাকার চায়ের দোকানে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযোগ, সেই সময় চায়ের দোকানে বসা আজমতের লোকের পুলিশের উপর হামলা চালায়। ঘটনায় জখম হন এসআই গোলাম কুদ্দুস ও কনস্টেবল অসিম বিশ্বাস। মাথা ফেটেছে কনস্টেবল অসিমের। তাঁদের ডোমকল মহকুমা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এরপরই বিপুল পুলিশ বাহিনী এলাকায় তল্লাশি চালায়। গ্রেপ্তার করা হয় দশজনকে।
স্থানীয় গড়াইমারী পঞ্চায়েতের প্রাক্তন উপপ্রধান সাব্বির আহমেদ জানান, "আগ্নেয়াস্ত্র মামলায় অভিযুক্ত সিপিআইএম সমর্থক আজমত আলি শেখের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ যায়। তাঁকে ধরে ফেলে। ওই সময় চায়ের দোকানে বসে থাকা আজমত শেখের লোকজন পুলিশের উপর চড়াও হয়। সসপেনের গরম জল পুলিশের গায়ে ছিটিয়ে, আজমতকে ছিনিয়ে নেয়।” যদিও ডোমকলের বিধায়ক মোস্তাফিজুর রহমান রানা জানান, “আজমত শেখ সিপিআইএমের কেউ নন। এতদিন তৃণমূলের সম্পদ হিসেবেই জনতাম। পুলিশকে মারতেই পরিচয় বদলে যাচ্ছে।" তবে তিনি পুলিশকে মারধরের ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানাচ্ছেন, "শুধু জল ছিটানোই নয় ওই সসপেন দিয়ে মেরে তা ভেঙে ফেলা হয়েছে। ঘটনায় পুলিশের কনষ্টেবল অসিম মণ্ডলে মাথা ফেটে গিয়েছে।" ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক। পরিস্থিতি সামাল দিতে এলাকায় পুলিশ টহল চলছে।
