সুব্রত যশ ও সুমন করাতি: প্রায় ২৪ ঘণ্টা আগে মায়ের সঙ্গে শেষ কথা। বাড়ি ফিরে আসার আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু তার পরই নিখোঁজ ছেলে। ওড়িশার কেওনঝড়ে শিক্ষামূলক ভ্রমণে গিয়ে ঝরনার ছবি তোলার সময় অঘটন। গভীর জলে তলিয়ে যান তারাশংকর সরকার। কান্নাভেজা চোখে ছেলে ফেরার অপেক্ষায় মা। কবে ফিরবে ছেলে, প্রায় অচেতন অবস্থায় একই কথা বিড়বিড় করেই চলেছেন তিনি।
কলকাতার আশুতোষ কলেজের পরিবেশ বিজ্ঞানের স্নাতকোত্তরের ছাত্র তারাশংকর সরকার। হুগলির আরামবাগের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ব্যানার্জিপাড়ায় বেড়ে ওঠা তাঁর। পরিবারের কনিষ্ঠ সন্তান। গত ২১ নভেম্বর বাড়ি থেকে বেরন। পরদিনই পৌঁছন ওড়িশার কেওনঝড়ে। মায়ের সঙ্গে প্রতি মুহূর্তে মোবাইলে যোগাযোগ রেখেছিলেন তারাশংকর। বৃহস্পতিবার সকালেও মায়ের সঙ্গে কথা হয় ওই ছাত্রের। প্রাতঃরাশ হয়ে গিয়েছে। সামান্য ঘোরাফেরা করে দুপুরে ট্রেনে ওঠার কথা বলেন তারাশংকর। তার পরই অঘটন। অচেনা নম্বর থেকে তারাশংকরের দাদা ফোন পান। অপর প্রান্তের ব্যক্তি নিজেকে তারাশংকরের বন্ধু বলেই পরিচয় দেন। জানান, পুন্ডুল ঝরনার ছবি তুলতে গিয়ে গভীর জলে তলিয়ে যান তারাশংকর।
[আরও পড়ুন: বচসার জেরে রাস্তার উপরই কুপিয়ে খুন যুবক, উত্তপ্ত চিৎপুর এলাকা]
ওই ছাত্রের বাবা কলকাতা পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত আধিকারিক। অঘটনের খবর পাওয়ামাত্রই ভবানীভবনে প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। উদ্ধারকাজ শুরু হতে সময় লেগে যায় অনেকটাই। বিকেলের দিকে খোঁজখবর শুরু হয়। সন্ধেয় ফের থমকে যায় উদ্ধারকাজ। এখনও তার খোঁজ পাওয়া যায়নি। কেন কলেজ কর্তৃপক্ষ নিখোঁজের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করল না, ক্ষোভে ফুঁসছেন তারাশংকের বাবা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও ছেলে ফিরছেন না। উদ্বিগ্ন গোটা পরিবার। কান্নায় ভেঙে পড়েছেন তারাশংকরের মা। ”কালই তোমার কাছে ফিরব বলেছিল। কেন এখনও ফিরছে না ছেলেটা”, একই কথা বলতে বলতে বারবার জ্ঞান হারাচ্ছেন তিনি।
ইতিমধ্যেই ওড়িশার কেওনঝড়ের ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন তারাশংকরের এক দাদা ও দুই কাকা। পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার নেপথ্যে বড় কোনও ষড়যন্ত্র রয়েছে। তাঁদের বক্তব্য, “তারাশংকরের আগে আরও একটি ছাত্র জলপ্রপাতে পড়ে গিয়েছিল। তার কিছু হল না। অথচ তারাশংকর পড়েই নিখোঁজ হয়ে গেল কীভাবে?” ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানিয়েছে গোটা পরিবার।
দেখুন ভিডিও:
