ধীমান রায়, আউশগ্রাম: মাত্র দুসপ্তাহের ব্যবধান। ফের দুঃসাহসিক ডাকাতির ঘটনা ঘটল পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রামে। ছোড়া কলোনিতে পুলিশকর্মীর বাড়িতে শনিবার রাত প্রায় আড়াইটে নাগাদ হানা দেয় সশস্ত্র ডাকাতদল। গৃহকর্তাকে মারধর করে লুটপাট চালায়। চিৎকার চেঁচামেচির আওয়াজ শুনে বাইরে বেড়িয়ে আসেন প্রতিবেশী এক যুবক। তাঁকে এলোপাথাড়ি ভোজালির কোপ মেরে চম্পট দেয় দুষ্কৃতীরা। জখম ব্যক্তির অবস্থা সংকটজনক। এই ঘটনা ঘিরে এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়েছে। ডাকাতির ঘটনার পরেই এদিন রবিবার আউশগ্রামে চলে আসেন জেলার পুলিশ সুপার আমনদীপ। যদিও পুলিশ ঘটনার কিনারা করতে পারেনি।
আউশগ্রামের ছোড়া কলোনির কারগিলপাড়ার বাসিন্দা সুশান্ত বিশ্বাস পুলিশকর্মী। হাওড়া কমিশনারেট এলাকায় কর্মরত। তিনি শনিবারই ছুটিতে বাড়ি আসেন। সুশান্তবাবু স্ত্রী জয়ন্তী বিশ্বাস বলেন, “রাত তখন প্রায় দেড়টা বাজে। দরজায় ঠকঠক আওয়াজ শুনে ঘুম ভেঙে যায়। কিন্তু তখন দরজা খুলিনি। তার পর ফের রাত দুটো নাগাদ আবার দরজায় কেউ ঠকঠক আওয়াজ করে। আমরা ভাবি কেউ আমাদের বিরক্ত করার জন্য ঠকঠক করে। এর পর আমার স্বামী দরজা খুলতেই মুখঢাকা বেশ কিছু ডাকাত ঘরে ঢুকে পড়ে। হাতে অস্ত্রশস্ত্র ছিল। ওরা প্রথমেই আমার স্বামীকে মারধর করে হাত-পা বেঁধে ফেলে। আমাকে বলে সোনা, টাকা যা আছে বের করে দে। ওরা নিজেরাই ঘর লণ্ডভণ্ড করে নগদ ৭০ হাজার টাকা এবং তিন ভরি সোনার গয়না লুট করে নেয়।” সুশান্তদের বাড়িতে যখন দুষ্কৃতীরা লুটপাট চালাচ্ছিল তখন তাদের চিৎকারে শুনে ঘর থেকে বেড়িয়ে আসেন প্রতিবেশী যুবক নরোত্তম বিশ্বাস। তিনি দুষ্কৃতীদের সামনে পড়ে যান। অভিযোগ, তাঁকে ঘিরে ধরে ভোজালি দিয়ে এলোপাথাড়ি কোপানো হয়। এর পর দুষ্কৃতীরা মাঠ ধরে ভুয়েয়া জঙ্গলের দিকে পালিয়ে যায়।
[আরও পড়ুন: মোদির লাক্ষাদ্বীপ সফর নিয়ে বিতর্কে মালদ্বীপ! ভারতীয়দের ‘উপহাস’ মুইজ্জুর দলের নেতার]
উল্লেখ্য, দুসপ্তাহ আগে আউশগ্রাম থানার অদূরে পরিবারের সদস্যদের বেঁধে রেখে কয়েক লক্ষ টাকার গয়না, নগদ টাকা এবং লক্ষাধিক টাকার বিদেশি মুদ্রা লুট করে পালায় ডাকাতদল। সেই ঘটনার কিনারা এখনও হয়নি। দুসপ্তাহের ব্যবধানে ফের আউশগ্রামে এই দুঃসাহসিক ডাকাতির ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে। এদিন রবিবার সকালে জেলার পুলিশ সুপার আমনদীপ আউশগ্রামে আসেন। তিনি পুলিশ আধিকারিকদের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ বৈঠক করেন। পূর্ব বর্ধমান জেলার ডিএসপি (ডিএনটি) বীরেন্দ্র কুমার পাঠক আসেন ছোড়া কলোনিতে। স্থানীয়দের কাছে ঘটনার বিবরণ শোনেন। যদিও রবিবার দুপুর পর্যন্ত ডাকাতির কিনারা করা সম্ভব হয়নি।
