অনুমোদন এলেই দিঘার সমুদ্রে চলবে আকর্ষণীয় 'এমভি নিবেদিতা' নামের ক্রুজ। তবে এই ছাড়পত্র খুব শীঘ্রই চলে আসবে বলেই প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে। বর্তমানে এই প্রমোদতরীর চালুর জন্য যাবতীয় পরিকাঠামো প্রস্তুত। দিঘা লাগোয়া পূর্ব মুকুন্দপুরের নায়েকালী মন্দির সংলগ্ন চম্পা খালে জেটিতে নোঙর করে রাখা হয়েছে ওই জলযান। ছাড়পত্র পেলেই তা সমুদ্র ভাসবে। আর তা দিঘায় যাওয়া পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে বলেই মনে করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, পর্যটকদের জন্য থাকছে একাধিক ব্যবস্থাও।
দিঘা-শঙ্করপুর উন্নয়ন পর্ষদ উদ্যোগে এই প্রমোদতরীতে পর্যটকদের যাওয়া-আসার সুবিধার জন্য পন্টুন জেটি ও গ্যাংওয়ে তৈরি হয়েছে। মেরিন ড্রাইভ লাগোয়া রাস্তা থেকে জেটি পর্যন্ত লম্বা কাঠের ব্রিজ নির্মিত হয়েছে। ব্রিজের গায়ে অনেকগুলি পথবাতি লাগানো হয়েছে। ডিএসডিএ নিযুক্ত এক ঠিকাদার সংস্থা যাবতীয় পরিকল্পনা রূপায়ণ করেছে। পিপিপি মডেলে চলবে নয়া প্রমোদতরীটি। বস্তুত, ইতিপূর্বে পরিবহণ দপ্তরের এই জলযান হলদিয়া থেকে আনা হয়েছিল। তারপর ডিএসডিএ টেন্ডার ডেকে প্রমোদতরীটি পরিচালনার দায়িত্ব ওই ঠিকাদার সংস্থার হাতে দেয়। তৈরি হয় পন্টুন জেটি ও গ্যাংওয়ে। পাশাপাশি জলযানটি কতটা সুরক্ষিত, তা খতিয়ে দেখার জন্য খাল ও সংলগ্ন সমুদ্রে একাধিকবার ট্রায়ালও হয়। জেটি পর্যন্ত যাওয়ার রাস্তা মাটির ছিল। সব সমস্যা কাটিয়ে রাস্তা সহ যাবতীয় পরিকাঠামো তৈরি হয়েছে।
পিপিপি মডেলে চলবে নয়া প্রমোদতরীটি। বস্তুত, ইতিপূর্বে পরিবহণ দপ্তরের এই জলযান হলদিয়া থেকে আনা হয়েছিল। তারপর ডিএসডিএ টেন্ডার ডেকে প্রমোদতরীটি পরিচালনার দায়িত্ব ওই ঠিকাদার সংস্থার হাতে দেয়। তৈরি হয় পন্টুন জেটি ও গ্যাংওয়ে।
এই প্রমোদতরীতে সুযোগ-সুবিধা কী থাকছে? রাতের বেলায় আলোকমালায় সেজে উঠবে প্রমোদতরী। এখানে থাকছে সাউন্ড সিস্টেম। নাচ-গান ও খানাপিনার আসর সহ সমুদ্রবিলাসের সব ব্যবস্থা থাকবে। আধুনিক সুবিধাযুক্ত এই জলযানে ছোট রেস্তরার পাশাপাশি থাকছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা। এই প্রমোদতরীতে প্রতি একঘণ্টার জন্য থাকবে ভ্রমণের বন্দোবস্ত। প্রাথমিকভাবে প্রত্যেকদিন দুটি করে সফর নির্দিষ্ট হয়েছে। দু'টি ডেকে সর্বাধিক ৮০জন পর্যটক বসতে পারবেন। এলইডি স্ক্রিনে তথ্যচিত্র আকারে দিঘার উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের চিত্র তুলে ধরা হবে ও যাত্রীরা দিঘা সহ সন্নিহিত এলাকা সম্পর্কে অনেককিছু জানতে পারবেন। জেটি থেকেই যাত্রা শুরু করবে প্রমোদতরী। যাত্রা শেষে সেখানেই ফিরে আসবে। মাথাপিছু কত ভাড়া হবে, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি বলে খবর। এই প্রমোদতরীতে ভ্রমণের জন্য স্পট ও অনলাইন-দু'ধরনের বুকিংয় থাকবে।
এই সেই প্রমোদতরী।
দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদার সংস্থার কর্তা প্রদীপ দাস বলেন, প্রমোদতরী চালানোর জন্য যাবতীয় পরিকাঠামো তৈরি। প্রশাসন সবুজ সঙ্কেত দিলেই প্রমোদতরীটি চালু করে হবে। এদিকে, ডিএসডিএ'র মুখ্য কার্যনির্বাহী আধিকারিক সুরজিৎ পণ্ডিত বলেন, প্রমোদতরীটি প্রয়োজনীয় অনুমোদনের অভাবে চালানো যাচ্ছে না। আমরা এটি চালুর ছাড়পত্র পাওয়ার ক্ষেত্রে ফিটনেস সার্টিফিকেটের জন্য পরিবহণ দপ্তরের কাছে আবেদন করেছি। আশা করছি, প্রয়োজনীয় অনুমোদন মিললেই খুব শীঘ্রই ক্রুজটি চালু হবে।
