প্রতিবছর সুন্দরবনের জঙ্গল থেকে আশেপাশের গ্রামে বাঘ ঢুকে আসার ঘটনা নতুন নয়। গত কয়েক বছরে বাঘের আনাগোনার ঘটনাও অনেকটা বেড়ে গিয়েছে। ফলে ঘুম উড়ে যায় বাসিন্দাদের। বাঘের হানা থেকে গ্রামবাসীদের বাঁচাতে নতুন পরিকল্পনা নিয়েছে বনদপ্তর। জঙ্গলের সীমান্তে লাগানো হচ্ছে 'ফিশিং সেন্সর' লাইট। এই লাইট জঙ্গল সংলগ্ন খাল ও খাঁড়ির পাশে যে সব জায়গায় বনদপ্তরের জাল কিংবা নেট রয়েছে, সেই সব জায়গায় উঁচু গাছের ডালে কিংবা জালে লাগানো হচ্ছে।
কী এই ফিশিং সেন্সর লাইট? বনদপ্তর সূত্রে জানানো হয়েছে সন্ধ্যার সময় এই আলো জ্বলবে। লাল, নীল, হলুদ, সবুজ বিভিন্ন রকম আলো এই লাইটগুলি থেকে বেরবে। ফলে বাঘ আর লোকালয়ের দিকে ঢোকার জন্য সাহস দেখাতে পারবে না বলেই মনে করছেন বনদপ্তরের কর্তারা। পরীক্ষামূলকভাবে এই আলো লাগিয়ে বনদপ্তর সফল হতেই কুলতলি এলাকায় এই আলো লাগানো হচ্ছে। কুলতলি বিট অফিসের পক্ষ থেকে, ২৬ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ৩০০টি এই বিশেষ 'ফিসিং সেন্সার' লাইট লাগানো হচ্ছে। কুলতলির যেসব এলাকায় বাঘের পায়ের ছাপ ও বাঘের গতিবিধি সবথেকে বেশি সেই জায়গাগুলিতেই এই ফিশিং সেন্সর লাইট লাগানো হচ্ছে। উল্লেখ্য, পরীক্ষামূলকভাবে পাথরপ্রতিমার একটি গ্রামে বেশ ভালোই ফল পাওয়া গিয়েছে।
দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা বনদপ্তরের আধিকারিকরা বলেন, "লোকালয়ে বাঘের হানা কমানোর জন্য বনদপ্তরের তরফে পরীক্ষামূলকভাবে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কুলতলি বিট অফিস সংলগ্ন জঙ্গল লাগলো লোকালয়ে ১০ ফুট করে নেট লাগানো হয়েছে। জালের কাছে ও বিভিন্ন গাছের ডালে এই লাইট লাগানো হয়েছে।" কুলতলির বাসিন্দারা জানান, "বনদপ্তরের তরফে এটি একটি ভালো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।"
