রাজ্যে এসআইআর শেষে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ এখনও সপ্তাহ দুই বাকি। তার জন্য অবশ্য থেমে নেই প্রচারপর্ব। বরং দিনদিন তার উত্তাপ বাড়ছে। বিজেপির তরফে ইতিমধ্যেই দিল্লির নেতা-মন্ত্রী যাতায়াত শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থেকে শুরু করে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকরা আসছেন, দলীয় কর্মীদের ভোকাল টনিক দিচ্ছেন। তবে ভোটের লড়াইয়ে কর্মীদের চাঙ্গা করতে গিয়ে মাঝেমধ্যেই বেফাঁস মন্তব্য করে বসছেন কেউ কেউ। রাজ্য বিজেপির কেন্দ্রীয় সহ-পর্যবেক্ষক বিপ্লব দেবের গলায় তেমনই মন্তব্য শোনা গেল। তাঁর কথায়, ''রক্তগঙ্গা বয়ে যাক কিংবা মহাসাগর, মানুষের ধৈর্য্যের বাঁধ ভেঙে গিয়েছে। উনি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) কেন, ওঁর পার্টিও থাকবে না।'' বিপ্লব দেবের এহেন মন্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। তাঁর কটাক্ষ, ''ওঁর মতো কাউকে মুখ্যমন্ত্রী করবে না তো যে ২ বছরের মধ্যে ফের ঘাড়ধাক্কা খেতে হয়?''
ভোটের মুখে বিজেপি নেতাদের মুখে লাগামছাড়া মন্তব্য নতুন নয়। প্রচারের ময়দানে নির্বাচনী উত্তাপ ছড়াতে যাঁর সুর যত উচ্চগ্রামে বাঁধা, তিনি তত বিতর্কিত। সেই তালিকায় রয়েছেন রাজ্য বিজেপির কেন্দ্রীয় সহ-পর্যবেক্ষক বিপ্লব দেব। তিনি অবশ্য ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীনই নানা সময়ে নানা বেফাঁস মন্তব্য করে দলকে অস্বস্তিতে ফেলেছিলেন। বছর দুয়েকের মধ্যে তাঁকে মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরিয়ে দেয় বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। এবার সেই বিপ্লব দেবকেই বাংলার ভোটের আগে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আর প্রচারে এসেই তিনি ফের স্বমহিমায় লাগামছাড়া কথা বলে চলেছেন, যা নিয়ে যথেষ্ট বিতর্কের অবকাশ তৈরি হয়েছে।
বিপ্লব দেবের কথায়, ''রক্তগঙ্গা বয়ে যাক কিংবা মহাসাগর, মানুষের ধৈর্য্যের বাঁধ ভেঙে গিয়েছে। উনি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) কেন, ওঁর পার্টিও থাকবে না।''
বুধবার সন্ধ্যা নাগাদ বরানগরে কর্মসূচি ছিল বিপ্লব দেবের। সেখানে এক মন্দিরে পুজো দিতে গিয়েছিলেন। মন্দির থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে আসন্ন নির্বাচনে ফলাফল সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি বললেন, ''রক্তগঙ্গা বয়ে যাক আর মহাসাগর বয়ে যাক, মানুষের ধৈর্য্যে বাঁধ ভেঙে গিয়েছে। মানুষ বদল চাইছে। মানুষ ঠিক করে নিয়েছে, এবার বিজেপির সরকার হবেই। এবার ওঁর (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) পার্টিটাই আর থাকবে না।'' সম্প্রতি 'লক্ষ্মীর ভাণ্ডার' প্রকল্পের টাকা বাড়িয়ে দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছে অন্তর্বর্তী বাজেটে। তা চলতি মাস থেকে কার্যকরও হয়েছে। সে প্রসঙ্গে বিপ্লব দেবের বক্তব্য, ''আমি ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী ছিলাম। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর রাজ্যে যত ভাতা আছে, সব দু'হাজার করে দিয়েছিলাম। কিন্তু কোনও ঢ্যাঁড়া পিটাইনি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পাঁচশো টাকা বাড়িয়ে এত ঢ্যাঁড়া পিটিয়ে বলছেন কেন?''
বিপ্লব দেবের এসব মন্তব্যের পালটা দিয়েছেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুও। তাঁর প্রতিক্রিয়া, ''বিজেপি সরকার গঠন করে আবার ওঁর (বিপ্লব দেব) মতো কাউকে মুখ্যমন্ত্রী করবে না তো, যে দু'বছরের মধ্যে ঘাড়ধাক্কা দিতে হয়?''
