বেলডাঙার অশান্তির (Beldanga Unrest) ঘটনায় কেস ডায়েরি নিয়ে নজিরবিহীন সংঘাত। তদন্ত শুরু করলেও এখনও পর্যন্ত কেস ডায়েরি হাতে পেল না এনআইএ। এমনকী এই বিষয়ে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার তরফে মুর্শিদাবাদ পুলিশকে ইমেলও পাঠানো হয়েছে। কিন্তু এরপরেও কেস ডায়েরি হস্তান্তরের বিষয়ে কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি বলেও অভিযোগ। শুধু তাই নয়, ইমেলের জবাবও দেওয়া হয়নি বলে দাবি। যদিও তদন্তকারী সংস্থার দাবি, আদালত আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কেস ডায়েরি জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। ফলত হাতে বেশ কিছুদিন সময় রয়েছে। এই অবস্থায় পুলিশের কি পদক্ষেপ করে সেদিকে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা নজর রাখছে।
ঝাড়খণ্ডে এক সংখ্যালঘু যুবকের মৃত্যুতে ১৬ জানুয়ারি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা। উত্তেজিত জনতা পথ ও ট্রেন অবরোধ শুরু করে। চলে ভাঙচুর। ১৭ তারিখও একইভাবে উত্তপ্ত হয়ে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা। জাতীয় সড়ক অবরোধ, ট্রেন অবরোধ, ভাঙচুর থেকে সাংবাদিকদের মারধর, দিনভর উত্তপ্ত ছিল এই এলাকা। কড়া হাতে পরিস্থিতি সামাল দেয় পুলিশ। ঘটনার পরেই একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরমধ্যেই কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে ঘটনার তদন্ত শুরু করে এনআইএ। যদিও এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় রাজ্য। এনআইএ তদন্তে স্থগিতাদেশের আবেদন জানানো হয়।
যদিও মামলার শুনানিতে রাজ্যের দাবি মেনে এনআইএ (NIA) তদন্তে কোনও স্থগিতাদেশ দেয়নি সুপ্রিম কোর্ট। তবে আদালত নির্দেশে জানিয়েছে, তদন্ত চলাকালীন ইউএপিএ প্রয়োগের প্রাথমিক ভিত্তি আছে কি না তা জানিয়ে সিল করা খামে কলকাতা হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে রিপোর্ট জমা দেবে এনআইএ। প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ সেই রিপোর্ট স্বাধীনভাবে বিবেচনা করবে এবং রাজ্য সরকারের আবেদন শুনবে বলেও নির্দেশে জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। এই অবস্থায় কেস ডায়েরি হাতে পাওয়াটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার কাছে। বিশেষ করে অভিযুক্তদের আদালতে তোলার ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যা নিয়ে গত শুনানিতে অসন্তোষ প্রকাশ করেন বিচারক। এমনকী ২৬ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কেস ডায়েরি এনআইএকে হস্তান্তরের নির্দেশও দেন বিচারক।
