বেলডাঙাকাণ্ডে এবার হাই কোর্টের দ্বারস্থ এনআইএ। শর্তসাপেক্ষে ১৫ জনের জামিন মঞ্জুর করেছিল এনআইএ-র বিশেষ আদালত। এবার নিম্ন আদালতের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন কেন্দ্রীয় সংস্থার আধিকারিকরা। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা অগ্রাহ্য করেই অভিযুক্তদের জামিন দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ এনআইএ-র।
আইন অনুযায়ী, ধৃতদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে চার্জশিট পেশ করতে হয়। কিন্তু ৯০ দিন পেরিয়ে গেলেও চূড়ান্ত চার্জশিট বা তদন্তে প্রামাণ্য রিপোর্ট পেশ করতে পারেনি জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ। এমনকী তদন্তের অগ্রগতি নিয়েও আদালতের প্রশ্নের জবাব দিতেও ব্যর্থ হন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা। এই পরিস্থিতিতে জামিনের আবেদন করেন ধৃতদের আইনজীবী। ১০ হাজার টাকার বন্ডে ১৫ জনের জামিন মঞ্জুর করে দেয় এআইএ-র বিশেষ আদালত। তবে জামিন মঞ্জুর হলেও তাঁদের গতিবিধির উপর একাধিক শর্ত আরোপ করা হয়েছে।
হাই কোর্টে এনআইএ-র দাবি, তদন্ত চলাকালীন এই ভাবে জামিন দিতে পারে না নিম্ন আদালত। সোমবার বিচারপতি অরুণ মাইতি ও ভাস্কর প্রসাদ বন্দ্যোপাধ্যায় উল্লেখ করে বলেন, যখন সুপ্রিম কোর্ট জামিনের আবেদন প্রত্যাখ্যান করে কলকাতা হাই কোর্টে ফেরত পাঠিয়েছে, তখন কীভাবে ধৃতদের জামিন মঞ্জুর করল নিম্ন আদালত? এই অভিযোগে বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিচারপতি অপূর্ব সিংহ রায়ের বেঞ্চে মামলা দায়ের হয়। আগামিকাল মামলার শুনানিতে স্পষ্ট হবে, আদৌ নিম্ন আদালতের রায় বহাল থাকবে নাকি হাই কোর্টের হস্তক্ষেপে জামিন পাওয়া ১৫ অভিযুক্তকে ফের হাতে পাবে এনআইএ?
গত জানুয়ারি মাসে মুর্শিদাবাদের এক পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছিল বেলডাঙা। ঝাড়খণ্ডে ওই পরিযায়ী শ্রমিককে খুন করা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছিল। সেই ঘটনায় বেলডাঙায় রেল ও জাতীয় সড়ক অবরোধ হয়! দফায় দফায় ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ। সংবাদমাধ্যমের উপরেও হামলা হয়েছিল! রাজ্য পুলিশের বিশাল বাহিনী ঘটনাস্থলে যায়। ধরপাকড়ের পর পরিস্থিতি আয়ত্তে আসে। তবে চাপা উত্তেজনা ছিল। পরে কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে ওই ঘটনার তদন্তভার গিয়েছিল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএর কাছে। ৩৫জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযুক্ত ৩৫জনকে জেল হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছিল আদালত।
