বহু ক্ষেত্রে কেবল 'কাগজ-কলমে' কাজ হয়েছে! উত্তরকন্যায় গিয়ে বিভিন্ন প্রকল্পের ফাইল দেখে হতবাক রাজ্যের উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক। একাধিক ঠিকাদার সংস্থাকে ঠিকাদারদের ব্ল্যাক লিস্টেড করার নির্দেশ দিলেন মন্ত্রী। ঘটনায় উত্তরকন্যায় শুরু হয়েছে চর্চা। এবার উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের ফাইল খুললেন রাজ্যের ক্রীড়া ও উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক। জানিয়ে দিলেন দপ্তরে ঠিকাদার ও দালালদের ভিড় চলবে না।
শনিবার তিনি কলকাতা থেকে শিলিগুড়িতে ফিরে সোজা পৌঁছে যান উত্তরকন্যায়। সেখানে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের আধিকারিকদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করেন। তাঁদের কাছে বিভিন্ন প্রকল্পের ফাইল চেয়ে নিয়ে খুলে দেখেন নিশীথ। জানতে পারেন, অনেক কাজ হয়েছে কেবল কাগজে-কলমে। কিছু কাজ বাস্তবায়িত হলেও অতি নিম্নমানের জিনিসে তৈরি এরপরই ক্ষুব্ধ মন্ত্রী দপ্তরের আধিকারিকদের ওই সমস্ত প্রকল্পের সঙ্গে জড়িত ঠিকাদারদের খুঁজে বের করে 'ব্ল্যাক লিস্টেড' করার নির্দেশ দেন। মন্ত্রী বলেন, "তৃণমূল সরকারের সময় যে সমস্ত প্রকল্পের কাজ হয়েছে বেশিরভাগ নিম্নমানের এবং অসঙ্গতিপূর্ণ। কিছু ফাইল দেখেছি। যে ঠিকাদাররা ওই সমস্ত প্রকল্পের সঙ্গে জড়িত ছিলেন তাদের খুঁজে বের করে ব্ল্যাক লিস্টেড করার জন্য আধিকারিকদের নির্দেশ দিয়েছি।"
কাজের অসঙ্গতির বিষয় তুলে ধরতে মন্ত্রী বলেন, "বাম আমলে দেড় কোটি টাকায় তৈরি কোচবিহারের রবীন্দ্র ভবন সংস্কারের জন্য তৃণমূল আমলে ৮ কোটি টাকা খরচ দেখানো হয়েছে।"
মন্ত্রী আরও জানান, দপ্তরের যে সমস্ত কাজ চলছে, সেগুলো বন্ধ করা হবে না। কিন্তু যেগুলো এখনও শুরু হয়নি, সেসব বাতিল করা হবে। কাজের অসঙ্গতির বিষয় তুলে ধরতে মন্ত্রী বলেন, "বাম আমলে দেড় কোটি টাকায় তৈরি কোচবিহারের রবীন্দ্র ভবন সংস্কারের জন্য তৃণমূল আমলে ৮ কোটি টাকা খরচ দেখানো হয়েছে।" নিশীথবাবু জানান, এসব চলতে দেওয়া হবে না। উত্তরকন্যা যে আগের সরকারের মতো নিষ্প্রাণ প্রতিষ্ঠান হবে না সেই আভাসও দেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, "আমি দল এবং মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলব মাঝেমধ্যে এখানেও যেন ক্যাবিনেট বৈঠক হয়।" তিনি তৃণমূল সরকারের কড়া সমালোচনা করে জানান, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উত্তরবঙ্গে পর্যটন সার্কিট তৈরি এবং উত্তরবঙ্গকে সুইজারল্যান্ড করে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু কাজ কিছুই করেননি। উত্তরবঙ্গকে বঞ্চিত করে বাজেট বরাদ্দ কমিয়েছেন। এবার উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের বাজেট বাড়বে। আগে যেভাবে খেয়াল খুশিমতো কাজ হত, সেটা চলবে না। আট জেলাকে সমান গুরুত্ব দেওয়া হবে।
