সুদূর মহারাষ্ট্র থেকে রক্ত আনিয়ে রোগীর জীবন বাঁচালো কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতাল। যা ভারতবর্ষের ইতিহাসে বিরল ঘটনা বলে দাবি বিশেষজ্ঞদের।
জানা গিয়েছে, পূর্ব মেদিনীপুর জেলার ভগবানপুর ২ ব্লকের বাসুদেববেড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা শৈবাল কুমার মান্না গত ১০ মে সকালে প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে এক মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনার কবলে পড়েন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে প্রথমে তমলুকের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় রক্ত পরীক্ষায় জানা যায় তাঁর রক্তের গ্রুপ ‘বম্বে নেগেটিভ’। যা অত্যন্ত বিরল ও দুষ্প্রাপ্য। এই রক্তের প্রয়োজনীয়তার কথা জানার পর চিকিৎসকেরা রোগীকে দ্রুত কলকাতার এসএসকেএম হাসপাতালে স্থানান্তর করার পরামর্শ দেন। রোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয় খেজুরির স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা উজান ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের সঙ্গে।
স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা রক্তের সন্ধান শুরু করে আরও একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ফিবডো-র সহযোগী সংগঠন লুসি -র সঙ্গে যোগাযোগ করে। লুসি নামক সংস্থাটি মূলত ভারতবর্ষ জুড়ে রক্ত সহায়তামূলক কাজ করে থাকে। দেশজুড়ে শুরু হয় বিরল বম্বে নেগেটিভ গ্রুপের রক্তের সন্ধান। এই নেগেটিভ রক্তের সন্ধান করতে গিয়ে সংস্থাটি জানতে পারে,পশ্চিমবঙ্গে এই বম্বে নেগেটিভ রক্ত একজনের শরীরে ছিল। কিন্তু তিনি প্রয়াত হয়েছেন। ভারতবর্ষের ১৭জনের শরীরে এই ধরনের নেগেটিভ রক্ত রয়েছে। খোঁজ নিয়ে দেখা যায় মহারাষ্ট্রের একটি ব্লাড ব্যাঙ্কে বম্বে নেগেটিভ গ্রুপের এক ইউনিট ব্লাড রয়েছে। রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের সহযোগিতায় মহারাষ্ট্র থেকে রক্ত সংগ্রহ করা হয়। শুক্রবার দমদম এয়ারপোর্টে এসে পৌঁছায় রক্তটি। পরে দমদম এয়ারপোর্ট থেকে গ্রীন করিডর করে এসএসকেএম হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। রোগী আপাতত সুস্থ রয়েছেন বলে খবর।
পুরো বিষয়টি উজানের সদস্য তথা ফিবডো-র ন্যাশনাল সেক্রেটারি বিশ্বরূপ বিশ্বাসের উদ্যোগেই গোটা প্রক্রিয়াটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়। বর্তমানে শৈবালবাবু সুস্থ রয়েছেন। উজানের পক্ষ থেকে প্রতীক দাস বলেন, আমরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, সাধ্যের বাইরে গিয়েও চেষ্টা করব। আর সেটাই আমরা করেছি। ঈশ্বরের আশীর্বাদ, আপনাদের ভালোবাসা এবং সকলের সহযোগিতাতেই মহারাষ্ট্র থেকে রক্ত সংগ্রহ করে একজন মানুষের জীবন বাঁচাতে পেরেছি এটাই আমাদের সফল্য।
