'ফেলো কড়ি মাখো তেল' - এই প্রবাদ আর কাজ করছে না সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে। বাড়তি টাকা দিলেও কাটা গ্যাস অমিল, এলপিজি-র জোগানেও টান। এই দ্বিমুখী সংকটে টালমাটাল উত্তর শহরতলির অটো পরিষেবা। কেজি পিছু ৪০ টাকা বেশি দাম দিলেও মিলছে না ‘কাটা গ্যাস’। অন্যদিকে, এলপিজি ফিলিং স্টেশনেও জোগান সীমিত বলে অভিযোগ। ফলে একাধিক রুটে অটোর সংখ্যা কমতে শুরু করেছে বলে দাবি চালকদের। ভোগান্তির মুখে পড়েছেন নিত্যযাত্রীরা।
বাড়তি টাকা দিলেও কাটা গ্যাস অমিল, এলপিজি-র জোগানেও টান। এই দ্বিমুখী সংকটে টালমাটাল উত্তর শহরতলির অটো পরিষেবা। কেজি পিছু ৪০ টাকা বেশি দাম দিলেও মিলছে না ‘কাটা গ্যাস’। অন্যদিকে, এলপিজি ফিলিং স্টেশনেও জোগান সীমিত বলে অভিযোগ।
বেলঘরিয়া, বারাকপুর, টিটাগড়, মধ্যমগ্রাম, বারাসত - উত্তর শহরতলির বিস্তীর্ণ এলাকায় প্রায় একই পরিস্থিতি। অধিকাংশ অটো এখন এলপিজি নির্ভর। এতদিন বহু চালক বিভিন্ন পুরসভা এলাকায় কেজি দরে বিক্রি হওয়া ‘কাটা গ্যাস’-এর উপর ভরসা করেই অটো চালাতেন। কিন্তু গত কয়েকদিন ধরে সেই কাটা গ্যাস বাজারে কার্যত উধাও বলে অভিযোগ। চালকদের দাবি, আগে ৭০–৮০ টাকা কেজিতে সহজেই কাটা গ্যাস পাওয়া যেত। এখন ১২০ টাকা কেজি দাম বললেও অনেক জায়গায় গ্যাস মিলছে না। ফলে বাধ্য হয়ে দূরের এলপিজি ফিলিং স্টেশনে ছুটতে হচ্ছে চালকদের। বুধবার ডানলপ-বারাকপুর রুটের অটোচালক বিশ্বজিৎ সাউ জানান, “ভোর পাঁচটা থেকে টিটাগড়ে কাটা গ্যাসের লাইনে দাঁড়িয়েছিলাম। সকাল সাড়ে দশটার সময় জানানো হয় গ্যাস শেষ। পরে খবর পেয়ে বেলঘরিয়ায় এসে আবার লাইনে দাঁড়াতে হয়েছে।”
ডানলপ, বেলঘরিয়া ও সাজিরহাটে বড় এলপিজি ফিলিং স্টেশন থাকলেও সেখানে এখন অটোর ভিড় উপচে পড়ছে। সবচেয়ে বেশি চাপ পড়েছে বেলঘরিয়া সিএসটিসি বাস ডিপো লাগোয়া এলপিজি ফিলিং স্টেশনে। দূরদূরান্ত থেকে বহু অটোচালক এই পাম্পে গ্যাস ভরতে আসছেন। স্থানীয়দের দাবি, অনেক সময় অটোর লাইন বিটি রোড ধরে কয়েকশো মিটার পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ছে। সেখানেই গ্যাস ভরতে যাওয়া মধ্যমগ্রামের অটোচালক অনুপ দে বলেন, “এখন গ্যাস ভরতে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে বেলঘরিয়ায় যেতে হচ্ছে। গ্যাসের অভাবে একাধিক অটো স্ট্যান্ডে গাড়ির সংখ্যা কমে গিয়েছে।” এই ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার সঞ্জয় দাস বলেন, “আগে প্রতিদিন গড়ে প্রায় চার হাজার লিটার এলপিজি বিক্রি হতো। এখন চাহিদা বেড়ে দিনে ১০ হাজার লিটারের বেশি হয়ে গিয়েছে। কিন্তু সরবরাহ সেই হারে বাড়েনি।”
জ্বালানি ব্যবসায়ীদের একাংশের মতে, পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতি, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী বন্ধের জেরে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। যার প্রতিফলন স্থানীয় বাজারেও দেখা যাচ্ছে। চালকদের আশঙ্কা, দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে উত্তর শহরতলিতে অটো পরিষেবায় বড়সড় ধাক্কা লাগতে পারে।
