জেলায় জেলায় প্রথমে অবজারভার, তার পর মাইক্রো অবজারভার। এবার দফা ভাগ করে প্রার্থিতালিকা প্রকাশের তোড়জোড় শুরু হয়েছে। যা দেখে কেউ কেউ বলছেন নির্বাচন কমিশনের ধাঁচে চলছে প্রদেশ কংগ্রেস।
চর্চা যেমনই হোক, আপাতত খবর প্রথম দফায় বাংলায় দলের জন্য ১০০ জনের প্রার্থীতালিকা প্রকাশ করতে পারে এআইসিসি। তার পরে আরও দুটি ধাপে প্রকাশিত হতে পারে বাকি প্রার্থীদের তালিকা। যা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে বুধবার সন্ধ্যায় দিল্লি পাড়ি দিলেন প্রদেশ সভাপতি শুভঙ্কর সরকার। নির্বাচন কমিশন বাংলার ভোট ঘোষণা করে দিলে প্রায় গায়ে গায়েই প্রথম ১০০ জনের তালিকা ঘোষণা করে দিতে পারে দল।
গত সোমবার ও মঙ্গলবার দুদফায় প্রথমে প্রদেশ নির্বাচন কমিটি ও পরে রাজ্য পর্যবেক্ষকদের উপস্থিতিতে স্ক্রিনিং কমিটি এবং জেলাওয়াড়ি পর্যবেক্ষকদের নিয়ে বৈঠক হয়েছে। দীর্ঘদিন বাদে এআইসিসি নেতৃত্বের কথামতো সেই বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন প্রাক্তন সভাপতি অধীর চৌধুরী। এআইসিসি ও প্রদেশ সভাপতির কথাই যে প্রার্থী বাছাইয়ে চূড়ান্ত সেই প্রস্তাব নিজেই সকলকে জানিয়েছেন অধীর। একটি সূত্রের দাবি, সব ক'টি জেলা থেকে প্রার্থীদের সম্ভাব্য তালিকা প্রদেশকে পাঠানো হলেও মুর্শিদাবাদ জেলার প্রার্থিতালিকা রাজ্য নেতৃত্বকে পাঠাননি সভাপতি মনোজ চক্রবর্তী। সেই তালিকায় গোপনীয়তা রেখে বিধান ভবনের গত বৈঠকেই পর্যবেক্ষক গোলাম মীরের হাতে তুলে দিয়েছেন অধীর নিজে। একটি অংশের দাবি, সেই তালিকায় বিধানসভার প্রার্থী হিসাবে অধীরের নামও রয়েছে। যদিও তাতে কোনও পক্ষই এখনও সিলমোহর দেয়নি।
প্রথম দফায় যে ১০০ প্রার্থীর নাম ঘোষণা করতে চাইছে এআইসিসি, তাতে প্রাথমিকভাবে ‘টপ প্লেয়ার’দের নাম থাকতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে মালদহ, মুর্শিদাবাদ, হুগলি, বর্ধমানের প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হতে পারে প্রথম দফায়। দলের একটা অংশের আরও দাবি, মালদহের জন্য মৌসম নুর-সহ তাঁর পরিবারের আরও দু’-একজনের নাম থাকতে পারে। তবে প্রথম তালিকায় না হলেও কোনও তালিকায় প্রদেশ সভাপতির নামও থাকতে পারে বলে মত দলের সেই অংশের। যদিও প্রদেশ সভাপতি নিজে মনে করিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বলা পুরনো একটি উক্তি। বলেছেন, “২৯৪ আসনে আমিই প্রার্থীই।” তাঁর ব্যাখ্যা, “দল নতুন আশা নিয়ে ২৯৪ কেন্দ্রে প্রার্থী দিচ্ছে। ২০ বছর পর একা লড়াই। তাতে হার-জিত যাই আসুক, তার সব দায়ই আমার। আমি দলের সকল প্রার্থীর হয়েই লড়ব।”
