shono
Advertisement
Nipah Virus

২১ বছর আগের মর্মান্তিক পরিস্থিতি ফিরবে না তো? রাজ্যে নিপার সংক্রমণে সতর্ক উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল

২০০৫ সালে নিপা ভাইরাসের ভয়ঙ্কর সংক্রমণ ছড়িয়েছিল শিলিগুড়িতে। মারণ ভাইরাসের হানায় ৪৯ জনের মৃত্যু হয়। ওই সময় প্রথম দিকে চিকিৎসকরা রোগের কারণ বুঝতে না পেরে নামকরণ করেছিলেন 'শিলিগুড়ি জ্বর'।
Published By: Kousik SinhaPosted: 07:31 PM Jan 14, 2026Updated: 07:47 PM Jan 14, 2026

রাজ্যে বিপজ্জনক নিপা ভাইরাস (Nipah Virus) সংক্রমণের খোঁজ মিলতেই উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হল। উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতের দুই নার্সকে ওই ভাইরাসে সংক্রমিত সন্দেহে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। দু’জনের অবস্থা সঙ্কটজনক বলে খবর। ভেন্টিলেশনে রেখে চলছে তাঁদের চিকিৎসা। খবর সামনে আসতেই উত্তরবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ এই মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের তরফে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। হাসপাতালের সুপার সঞ্জয় মল্লিক বলেন, "কয়েক বছর আগে শিলিগুড়িতে ওই রোগ ছড়িয়ে পড়েছিল। এরপর থেকেই নজর রয়েছে। সাম্প্রতিক ঘটনার পর নজরদারি আরও বাড়ানো হয়েছে।'' তবে নিপা ভাইরাস নিয়ে এখনই আতঙ্কের কিছু নেই বলেই জানিয়েছেন সঞ্জয় মল্লিক।

Advertisement

স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, শিলিগুড়িতে ২০০৫ সালে নিপা ভাইরাসের (Nipah Virus) সংক্রমণ ছড়িয়েছিল। দুই দশক আগে মারণ ভাইরাসের হানায় ৪৯ জনের মৃত্যু হয়। ওই সময় প্রথম দিকে চিকিৎসকরা রোগের কারণ বুঝতে না পেরে নামকরণ করেছিলেন 'শিলিগুড়ি জ্বর'। পরের বছর অর্থাৎ ২০০৬ সালে অনুসন্ধানে জানা যায় রোগের কারণ নিপা ভাইরাসের সংক্রমণ। সেটাই ছিল ভারতের প্রথম নিপা ভাইরাসের আক্রমণ। আক্রান্ত হয়েছিলেন চিকিৎসক, স্বাস্থ্য়কর্মী-সহ অনেকেই। এবার ফের আতঙ্ক ছড়িয়েছে রাজ্যে। আক্রান্ত হয়েছেন দু’জন।

স্বাস্থ্য কর্তারা জানাচ্ছেন, এই মারণ ভাইরাসের উৎস মূলত বাদুড়। বাদুড়ের আধখাওয়া ফল ভাল ফলের সঙ্গে মিশে থাকলে সেখান থেকেও ছড়াতে পারে এই ভাইরাস। আক্রান্তের ব্যবহৃত বিছানা, পোশাক অথবা অন্য জিনিসপত্র থেকেও সংক্রমণের ক্ষমতা রাখে নিপা ভাইরাস। সাধারণ ভাইরাল জ্বরের মতো উপসর্গ হলেও নিপা ভাইরাসে মৃত্যুহার ৫০-৬০ শতাংশ। আক্রান্তের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাই তাঁকে সুস্থ করতে পারে। সে জন্য দ্রুত রোগ ধরা পড়া অত্যন্ত জরুরি বলে দাবি স্বাস্থ্য আধিকারিকদের। তাঁদের কথায়, নিপাকে বিজ্ঞানীরা বলেন ‘জুনটিক ভাইরাস’। প্রথমে জ্বর মাথাব্যথার মতো সাধারণ কষ্ট থাকে। যাকে সাধারণ ফ্লু বলে মনে হতে পারে। কিন্তু এর সঙ্গে যদি রোগী আচ্ছন্ন হয়ে যান, ভুল বকা শুরু হয়, কাউকে চিনতে না পারেন, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব উপযুক্ত পরিষেবা আছে এমন হাসপাতালে ভর্তি করানোর পরামর্শ দিয়েছেন স্বাস্থ্য কর্তারা। তাদের সতর্কতা, রোগের প্রথম দিকে অনেকের শ্বাসকষ্ট হয়। এঁদের থেকেই রোগ ছড়ায় বেশি। সে জন্য রোগীকে আলাদা কোয়ারেন্টাইনে রাখতে হয়। মনে রাখতে হবে যত্রতত্র নয়। শুধুমাত্র বায়ো-সেফটি লেভেল-থ্রি স্তরের ল্যাবরেটরিতে নিপা ভাইরাসের পরীক্ষা করা সম্ভব।

হাসপাতালের সুপার সঞ্জয় মল্লিক জানিয়েছেন, উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে আতঙ্কের কিছু নেই। পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। বলে রাখা প্রয়োজন, এই ভাইরাস ছড়ানোর খবর প্রথমবার সংবাদ শিরোনামে উঠে আসে ১৯৯৮ সালে। ওই সময় বাংলাদেশ এবং মালয়েশিয়ায় নিপা ভাইরাস আক্রান্তের খোঁজ মিলেছিল। সেই দিক থেকে এই ভাইরাস তিন দশক ধরে চিকিৎসক মহলের পরিচিত। শিলিগুড়ি ছাড়াও ২০০৭ সালে নদিয়াতে নিপা ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছিল।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement