সকাল-বিকেল-রাত, প্রতিমুহূর্তে বদলে যাচ্ছে এসআইআর সংক্রান্ত নির্দেশিকা। যে তথ্য ভোটারদের থেকে চাওয়া হচ্ছে, তাতে অনেকের নাম বাদ পড়বে। এমনকী সন্তান ৪ জন থাকলেও ৬ জন দেখিয়ে শুনানিতে ডাক দেওয়া হচ্ছে! এই অভিযোগ তুলে বিএলও পদ থেকে গণইস্তফা দিলেন মুর্শিদাবাদের ফরাক্কা ব্লকে কর্মরত প্রায় দু'শোর বিএলও। জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, বিএলওদের কাজ করতে না চেয়ে গণ ইস্তফাপত্র এখনও গৃহীত হয়নি। তাই সমস্ত বিএলওকেই তাঁদের নির্দিষ্ট কাজ করতে হবে।
এসআইআর প্রক্রিয়ার শুরু থেকেই একাধিক অভিযোগ উঠছে। প্রতিবাদ জানিয়েছে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। অনেক বিএলও ক্ষোভ প্রকাশ করছিলেন। এবার ফরাক্কায় তার বহিঃপ্রকাশ! বিক্ষোভরত বিএলওরা বুধবার অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশনের সার্ভারে কিছু ত্রুটি থাকার জন্য ২০০২ -এর তালিকা সঙ্গে বর্তমান ভোটার তালিকার ছোটোখাটো কিছু তথ্য মিলছে না। তার পাশাপাশি বিএলওদের অ্যাপটিও ঠিকমতো কাজ করছে না।
বিক্ষোভরত এক বিএলও মীর নাজির আলি বলেন, "রাজ্যজুড়ে এসআইআর শুরুর প্রথম পর্বে জানানো হয়েছিল ভোটার তালিকায় অনুপস্থিত, স্থানান্তরিত ও মৃত ভোটারদের নাম বাদ দিতে হবে। কিন্তু এখন আমাদেরকে দিয়ে নিত্যনতুন কাজ করানো হচ্ছে। আমাদেরকে কোনও রকম প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে না। কেবলমাত্র হোয়াটসঅ্যাপে কিছু নির্দেশিকা পাঠিয়ে নতুন নতুন কাজ দিচ্ছে। আবার কখনও সকালের নির্দেশিকা রাতে বদলে যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের কাজ করা আমাদের পক্ষে করা অসম্ভব হয়ে উঠেছে।"
আরও এক বিক্ষোভরত বিএলও সৈয়দ তাজ ইসলাম বলেন, "নির্বাচন কমিশন যেভাবে এসআইআর করছে তাতে বেশিরভাগ ভোটারের নামই বাদ পড়বে। ২০০২-এর ভোটার তালিকায় বহু ভোটারের নামে ভুল ছিল। পরবর্তীকালে নির্বাচন কমিশনের আইন মেনে ৮ নম্বর ফর্ম পূরণ করে অনেক ভোটারই নিজেদের নাম ঠিক করে নিয়েছেন। তাঁদের পক্ষে এখন আর পুরনো নথি পেশ করা সম্ভব নয়।"
