shono
Advertisement

চাই চর্বি! ডলফিনের ঠোঁট কেটে গাছে ঝুলিয়ে দিল চোরা শিকারিরা, তদন্তে বনবিভাগ

কাটোয়া থানার অগ্রদ্বীপ এলাকায় বাবলাডাঙ্গা মাঠে একটি বাবলাগাছে ঝোলানো অবস্থায় ওই ডলফিনটির দেহ উদ্ধার করে বনবিভাগ।
Published By: Kousik SinhaPosted: 04:08 PM Jan 23, 2026Updated: 04:09 PM Jan 23, 2026

ভাগীরথী নদীর অদূরে নির্জন মাঠের মাঝে একটি গাছে ঝোলানো ছিল ডলফিনের মৃতদেহ। মাথার দিকটা ঝুলিয়ে কেটে ফেলা হয়েছিল ডলফিনটির ঠোঁট। তারপর মাথার দিকে বেঁধে দেওয়া হয় একটি টিন। কাটোয়া থানার অগ্রদ্বীপ এলাকায় বাবলাডাঙ্গা মাঠে একটি বাবলাগাছে ঝোলানো অবস্থায় ওই ডলফিনটির দেহ উদ্ধার করে বনবিভাগ। ডিএফও সঞ্চিতা শর্মা বলেন, ''মনে হচ্ছে মৃত ডলফিনটির দেহ থেকে তেল বা ফ্যাট নিষ্কাশন করার উদ্দেশ্যে ওইভাবে মাথার দিকে টিন বেঁধে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল। এটা সম্পূর্ণ বেআইনি। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে গুরুতর অপরাধ। আমরা তদন্ত শুরু করেছি। পাশাপাশি ডলফিনটির মৃত্যু কীভাবে হল, সেটি হত্যা করা হয়েছিল কিনা তা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর জানা যাবে।'' যদিও প্রাথমিকভাবে বনবিভাগের অনুমান, ডলফিনটির দেহ ভেসে আসার পর কেউ বা কারা সেটি উদ্ধার করে মৃতদেহ থেকে চর্বি সংগ্রহ করার চেষ্টায় ছিল। 

Advertisement

ভাগীরথী নদীর এক সম্পদ গাঙ্গেয় ডলফিন। কাটোয়া হল ভাগীরথী নদী ও অজয়নদের সঙ্গমস্থল‌। বিশেষ করে এই সঙ্গমস্থলের কাছে প্রায়শই গাঙ্গেয় ডলফিন দেখা যায়। বহু পর্যটক ডলফিন দেখতে ভিড় করেন। ডলফিন বাঁচাতে যদিও ধারাবাহিকভাবে বনবিভাগের পক্ষ থেকে সচেতনতামূলক প্রচার চালানো হয়। তবুও মাঝেমধ্যে কাটোয়া, অগ্রদ্বীপ বা কাছাকাছি এলাকায় মাঝেমধ্যে মৃত ডলফিনের দেহ ভেসে আসতে দেখা যায়। আবার জেলেদের ব্যবহার করা মিহি নাইলন সুতোর জালে আটকে মাঝেমধ্যে ডলফিনের মারা যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। যা নিয়ে উদ্বিগ্ন পরিবেপ্রেমীরা। এবার চোরা শিকারীদের বা অসাধু কারবারীদের নজর ডলফিনের উপর পড়তে দেখে নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে বনবিভাগের।

অগ্রদ্বীপ অঞ্চলের বাবলাডাঙ্গা মাঠে একটি বাবলা গাছে প্রায় ১৫ ফুট উঁচুতে একটি ডলফিনের দেহ ঝোলানো থাকতে দেখা যায়। মাঠে গিয়ে কারও চোখে পড়ে। খবর পেয়ে বনবিভাগের একটি দল আসে। দেখা যায় লেজের দিকটা দড়ি দিয়ে বেঁধে উল্টো করে ঝোলানো রয়েছে মৃত ডলফিনটি। মুখের অংশে টিন বাঁধা। সেই টিন সরিয়ে দেখা যায় ঠোঁট দুটি কেটে ফেলা হয়েছে। টিনের ভিতর জমা হয়েছে বেশকিছুটা দেহরস। পচা দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। যা দেখে অনুমান অন্তত তিনদিন আগে থেকেই এভাবে ঝোলানো হয়েছিল। ১১৪ সেন্টিমিটার দৈঘ্যের এই পুরুষ ডলফিনটির বয়স প্রায় ছয় মাস বলে ধারনা বনবিভাগের।

কিন্তু কেন এভাবে ঠোঁট কেটে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল? বনবিভাগ সূত্রে খবর, ডলফিনের চর্বি বা ব্লাবার সংগ্রহ করতেই এভাবে মৃত ডলফিন ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল। এই চর্বি প্রধানত তাদের শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, শক্তি সঞ্চয় এবং সাঁতারের সময় ভাসমান থাকতে সাহায্য করে। অবৈধ বাজারে ডলফিনের তেল চড়া দামে বিক্রি হয়। এই তেল গাঁটে ব্যথার ওষুধ তৈরিতে কাজে লাগে। মাছ ধরার টোপ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বেআইনি কারবারীদের কাছে ডলফিনের ব্লাবার বা চর্বি মূল্যবান একটি সম্পদ।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement