বর্ষায় বাড়ির উঠানে বাঁধা থাকে নৌকা। প্রাকৃতিক দুর্যোগে বারবার বিপর্যস্ত হয় জনজীবন। ইন্টারনেট দূরের কথা, বিছিন্ন হয়ে যায় যাতায়াত ব্যবস্থা। এহেন প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে উঠে এল এক হার না মানা যুবক। রাজ্য সরকারের ডিএসপি পদে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। সেই চিঠি শুধু খবর নয়, গ্রামের তরুণদের কাছে যেন আত্মবিশ্বাসের বার্তা!
খানাকুলের প্রদীপ্ত বাগ। গ্রামের স্কুলে প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তরের পড়াশোনা। পরে নন্দনপুর রূপচাঁদ অ্যাকাডেমি থেকে উচ্চ মাধ্যমিক। আরামবাগের নেতাজি মহাবিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে অনার্স। আর্থিক সীমাবদ্ধতা, হাজার প্রতিকূলতা পেরিয়ে প্রদীপ্ত আজ, রাজ্য পুলিশের ডিএসপি পদে নির্বাচিত হয়েছেন। মঙ্গলবার ২০২৩ সালের রাজ্য সিভিল সার্ভিস পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়েছে। সাধারণ মেধা তালিকায় ১৭তম স্থান অধিকার করেছেন তিনি। একদিনেই এই সাফল্য আসেনি। বিদ্যুৎহীন রাত, বন্যার জলে নৌকোয় যাতায়াতের বাধা পেরিয়ে আজ তিনি এই জায়গায়।
ছেলের সাফল্যে আবেগের জোয়ারে ভাসছেন বাবা প্রশান্ত বাগ ও মা পৌলমী বাগ। শুধু পরিবার নয়, গোটা গ্রামে যেন উৎসব! গ্রামবাসীরা বুক ঠুকে বলছেন, "আমাদের গাঁয়ের ছেলে, পুলিশকর্তা।" প্রদীপ্ত বলছেন, "লক্ষ্য স্থির থাকলে, পরিবেশ বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে না।"
