লোকসভায় বাজেট পেশ করেছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। শিলিগুড়ি-বারাণসী হাই স্পিড ট্রেন চলবে বলে ঘোষণা হয়েছে বাজেটে। তাহলে কি আগামী দিনে শিলিগুড়িতে বুলেট ট্রেন চলবে? এই কথা শোনার পর থেকেই বিভিন্ন মহলে শুরু হয়েছে চর্চা। বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনের আগে কি বিজেপি সরকার উত্তরবঙ্গের দিকে নজর দিচ্ছে? সেই প্রশ্ন উঠেছে। তবে এই বুলেট ট্রেন নিয়ে রাজনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে চর্চা। তৃণমূল ও বিজেপি নেতৃত্বের বক্তব্যেও শুরু হয়েছে চাপানউতোর।
শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব জানিয়েছেন, এই বাজেটে বাংলার জন্য বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের জন্য কিছুই ঘোষণা করা হয়নি। একটি হতাশজনক বাজেট। তিনি আরও জানিয়েছেন, আগে আমেদাবাদ-মুম্বই হাই স্পিড ট্রেন চালানো হোক, নির্বাচনের আগে এই একটা কথাই বলা হয়েছে। মানুষের সঙ্গে সংযুক্তির বিষয়ে কোনও প্রজেক্ট এই বাজেটে নেই। এমন বিষয় ঘোষণাই থেকে যায়। সেখানে কাজ শুরু না হলে কিছু বলা যাবে না। সাধারণ মানুষের কতটা সুবিধা হবে, সেই প্রশ্নও থাকবে বলে তিনি জানিয়েছেন। তৃণমূলের তরফে এই ঘোষণা নিয়ে খোঁচা দেওয়া হয়েছে।
যদিও এই বুলেট ট্রেন বিষয়ে উচ্ছ্বসিত বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ। তিনি জানিয়েছেন, শিলিগুড়ির কাছে এটা অনেক বড় খবর। শিলিগুড়ি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে মিশে গেল। শিলিগুড়ি থেকে বারাণসী কেন্দ্র। আমেদাবাদ-মুম্বইয়ের পর দ্বিতীয় বুলেট ট্রেন পেতে চলেছে শিলিগুড়ি। শিলিগুড়ি শহরের গুরুত্ব আরও বাড়ল। কিছুদিন আগে উত্তরবঙ্গ পেয়েছে বন্দে ভারত স্লিপার ট্রেন। এবার এই বুলেট ট্রেন পাচ্ছে শিলিগুড়ি।
বুলেট ট্রেন পাওয়ার খবরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া শিলিগুড়ি শহরেও। সব কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত কিছুই বলা যাবে না। এমনই মনে করছেন সাধারণ মানুষের একাংশ। তবে বুলেট ট্রেন আগামী দিনে চললে উত্তরবঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও সহজ হবে বলে মত অনেক সাধারণ মানুষের। ব্যবসায়ীদের কতটা উপকার হবে বুলেট ট্রেন হলে সেই প্রশ্নও উঠেছে। এই বিষয়ে শিল্পপতি সুরজিৎ পাল জানিয়েছেন, এই বুলেট ট্রেন চললে নিরাপত্তা আরও বাড়বে। সাধারণ মানুষেরও উপকার হবে। কিন্তু কতটা ব্যবসায়ী, শিল্পপতিদের লাভ হবে, তা এখনই বলা যাচ্ছে না।
