শীতের ছুটিতে অনেকেই এদিক-ওদিক বেড়াতে যান! যার মধ্যে একটি জয়রামবাটি। পর্যটকদের ভিড়ের সুযোগ নিয়ে সেখানকার একাধিক লজে মধুচক্র চালানোর অভিযোগ। এই সংক্রান্ত অভিযোগ সামনে আসতেই নড়েচড়ে বসে জেলা পুলিশ প্রশাসন। এরপরেই বিশেষ অভিযান চালিয়ে চারটি লজের মালিক, ম্যানেজার-সহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পাশাপাশি ওই লজগুলি থেকে সাতজন মহিলাকে উদ্ধার করা হয়েছে। আর এই ঘটনা সামনে আসতেই আগামিদিনে এহেন অভিযান পুলিশের তরফে আরও চালানো হবে বলেও জানানো হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, জয়রামবাটিতে বেশ কিছুদিন ধরেই বাইরে থেকে মহিলা এনে লজে মধুচক্র চালানো হচ্ছে -এমনই অভিযোগ আসছিল জেলা পুলিশের কাছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই পুলিশের একটি দল অভিযান চালায়। জানা যায়, শনিবার সন্ধ্যে থেকে গভীর রাত পর্যন্ত একের পর এক লজে ঢুকে সরজমিনে পুরো পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন পুলিশ আধিকারিকরা। আর এই তল্লাশি অভিযান চলাকালীন জয়রামবাটির তিনটি লজ থেকে মোট সাতজন মহিলাকে উদ্ধার করা হয়। ওই লজগুলির মালিক ও ম্যানেজারদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। যদিও শেষমেশ মোট ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধৃতদের আদালতে তোলা হলে ৯ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেয় আদালত। ধৃতদের ইতিমধ্যে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পবিত্র মাতৃভূমি জয়রামবাটিতে সারা বছর দেশ-বিদেশের বহু ভক্ত ও পর্যটক আসেন। সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কিছু অসাধু লজ মালিক এই ধরনের বেআইনি কাজ চালাচ্ছিল বলে অভিযোগ। অভিযান চলাকালীন লজের রেজিস্টার-সহ বেশ কিছু নথিপত্র ও সামগ্রী বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায়।
সাংবাদিকদের মুখোমুখি এসডিপিও মৈনাক বন্দ্যোপাধ্যায়।
ঘটনা প্রসঙ্গে এসডিপিও মৈনাক বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ''গত ৩১ তারিখ খবর পাই জয়রামবাটির লজে বেশ কিছু অসামাজিক কাজকর্ম চলছিল। এরপরেই জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে বিশেষ অভিযান চালানো হয়। তিনটি লজ থেকে সাতজন মহিলাকে উদ্ধার করা হয়েছে।'' আগামিদিনে এমন অভিযান চলবে বলেও জানিয়েছেন ওই পুলিশকর্তা। তাঁর স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, বাঁকুড়া জেলায় কোনও ধরনের অপরাধ করতে দেওয়া হবে না।
